অনুচ্ছেদ

জিহ্বা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:১২

 

কথা বলা শেখার আগে মানুষ জিহ্বা দিয়ে শুধু খাওয়াদাওয়া করত। এরকম একটা নরম কোমল সংবেদনশীল অঙ্গ দিয়ে গোরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, ডাব-নারিকেল, আলু-কচু, শেকড়-বাকড় খেয়ে বেড়াত। জিহ্বার যে গুণ মানুষ আদিমকালেই বুঝতে পেরেছিল, সেটা হচ্ছে, জিহ্বা টক ঝাল মিষ্টি যেমন বোঝে, গরম ঠান্ডাও বোঝে। আমাদের শরীরের চামড়াও সেসব কিছু কিছু বুঝতে পারে। তবে চামড়া দীর্ঘদিন শরীরের বাইরে থাকতে থাকতে শক্ত হয়ে গিয়েছে, ফলে গরম ঠান্ডা বুঝলেও টক মিষ্টি বোঝে না; তবে ঝাল একটু একটু বোঝে—মরিচ বাটলে হাত জ্বলে। তবে মনে হয় কি জিহ্বা যদি আরেকটু সংবেদনশীল হতো, আমরা শব্দের স্বাদও বুঝতে পারতাম। ‘রসগোল্লা’ বলামাত্রই মিষ্টি মিষ্টি লাগত, চটপটি বলামাত্রই ঝাল ঝাল লাগত, মাছ বলামাত্রই কাঁটা ফুটত। সেরকম প্রচেষ্টা জিহ্বার একটু একটু আছে বলেই মনে হয়—কাঁচা মরিচ দিয়ে কাঁচা তেঁতুল বাটা বললে অনেকের জিহ্বাই সাড়া দেয়—ভেতরে ভেতরে রসিয়ে ওঠে। এককালে জিহ্বার হয়তো সেরকম ক্ষমতা পুরোদমেই ছিল। সে ক্ষমতা আজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমার মনে হয়, চেঁচামেচি করে আর ভেংচি দিয়ে জিহ্বা তার সংবেদনশীলতা নষ্ট করে ফেলেছে। চেঁচামেচি করতে হলে মুখ হাঁ করতে হয়, মুখের ভেতরে রোদ ঢুকে যায়, আর ভেংচি দিতে হলে জিহ্বা নিজেই বেরিয়ে আসে—এভাবে বারবার বেরুতে বেরুতে জিহ্বা শক্ত হয়ে গিয়েছে। তাই শক্ত কথাও সে আজকাল আর ধরতে পারে না, শব্দের স্বাদ বোঝা তো দূরের কথা। হায়, জিহ্বা যদি সেই সংবেদন ধরে রাখতে পারত—কথা বললেই যদি কথার স্বাদ বুঝে ফেলত—মানুষ কেবল মিষ্টি মিষ্টি কথা বলত, পচা কথা বলত না। ভয়ে কেউ কাউকে ‘ইঁদুরের ছানা’-ও বলতে সাহস করত না—সারা দিন মুখটাকে ইঁদুরের গর্তের মতো মনে হতো।