চলাচলে ভোগান্তি স্থানীয়দের
গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান(চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
রাউজানে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কসংলগ্ন পাহাড়তলী চৌমুহনিতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মালিকানাধীন জমির ওপর নির্মিত যাত্রীছাউনিটি বেদখল হয়ে এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। যাত্রীছাউনি না থাকায় স্থানীয় অধিবাসীরা যাতায়াতের সময় রোদ-বৃষ্টিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। যাত্রীছাউনিটি দখলমুক্ত করার দাবি জানান স্থানীয়রা।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে পাহাড়তলী চৌমুহনি বাজারে কোনো যাত্রীছাউনি চোখে পড়েনি। যাত্রীছাউনির স্থলে রয়েছে ‘মেসার্স শাহাজালাল অটো পার্টস ও স্বপ্নের হাসি ওয়েডিং অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ নামের দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়তলী চৌমুহনিতে সওজর জায়গার ওপর প্রায় ১৮ বছর আগে একটি যাত্রীছাউনি নির্মিত হয়েছিল। বিগত একদশক আগে যাত্রীছাউনিটি স্থানীয় আব্দুল গফুর নামে এক ব্যক্তি ইজারা নেওয়ার নাম করে দখলে নেন। যাত্রীছাউনিটি দখলে নিয়ে সেখানে তিনি দোকান নির্মাণ করে ভাড়ায় দিয়ে দেন। মিজানুর রহমান নামের স্থানীয় এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি বলেন, যাত্রীছাউনি দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করার কারণে রোদ-বৃষ্টিতে দাঁড়ানোর কোনো স্থান নেই। একটু বৃষ্টি হলে বা প্রচণ্ড রোদে পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাপনাগুলোতে গিয়ে আশ্রয় খুঁজতে হয়। মাঝে মাঝে কোনো দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে দোকানদার বিরক্তি প্রকাশ করেন। যাত্রীছাউনিটি থাকলে যাত্রীদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
ইসমাত আরা পারভিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, মাঝে মাঝে গাড়ির জন্য অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যাত্রীছাউনি থাকলে বসার বা ছায়ার একটু স্থান পেতাম। অবৈধ দখলদার আবদুল গফুরের জামাতা জামশেদ জানান, যাত্রীছাউনিটি তার শ্বশুর আব্দুল গফুর ইজারা নিয়েছেন। দেড় বছর আগে তিনি মারা যান। তার ছেলেরা দেশের বাইরে থাকেন। তিনি দোকানের ভাড়া দেখাশুনা করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পাহাড়তলী চৌমুহনি ব্যাবসায় কল্যাণ সমিতির সভাপতি রোকনউদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, সওজর জায়গার ওপর নির্মিত যাত্রীছাউনিটি গফুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি দখলে নিয়েছিলেন। তিনি মারা গেছেন। বর্তমানে এটি তার পরিবারের দখলে আছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের অনেকেই যাত্রীছাউনিটির অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছিল। আমি এই বিষয়ে সওজর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সওজ যদি জায়গাটি উদ্ধার করে দেন। আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যাত্রীছাউনি তৈরির ব্যবস্থা নিব। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, সওজর জমির ওপর নির্মিত কোনো যাত্রীছাউনি ইজারা দেয়নি। কেউ যদি সওজর জায়গা দখল করে থাকেন আমরা উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিব।
