কিশোরগঞ্জ-১ আসন
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনেও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার অনুপস্থিতিতেই নৌকার পক্ষে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তিনি এই আসন থেকে পরপর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অপরদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অবতীর্ণ হচ্ছেন সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম চুন্নু। জেলা বিএনপির মধ্যে অনেক দ্বিধা-বিভক্তি থাকলেও নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নেতা-কর্মীরা অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে দলীয় প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে একাট্টা হয়েছেন। তারাও মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। তবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ব্যক্তি ইমেজের কাছে মোঃ রেজাউল করিম চুন্নু অনেকটাই ম্লান বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করেন।
’৯৬ সাল থেকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এই আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনবার জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ হিলালী তার নিকট পরাজিত হন। ২০১৪ সালে সৈয়দ আশরাফ এই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কিশোরগঞ্জ শহরকে একটি দৃষ্টিনন্দন শহর হিসেবে গড়ে তোলার রূপকার তিনি। জেলা শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী খনন, নদীর উভয় পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, যাতায়াতের সুবিধার জন্য হাতিরঝিলের অনুকরণে নরসুন্দা নদীর ওপর কয়েকটি ব্রিজ ও পার্ক নির্মাণ করে কিশোরগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি তিনি পূরণ করেছেন। আওয়ামী লীগের আমলেই কিশোরগঞ্জে তার পিতার নামে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে এই আসন থেকেই ’৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পিতা মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও পঁচাত্তরের জেলহত্যার নির্মম শিকার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে বিদেশে অবস্থান করলেও তার পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীরা আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। বিশেষ করে গত ১৮ ডিসেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সৈয়দ অশরাফুল ইসলামসহ সকল নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত আহ্বান জানানোর পর নেতা-কর্মীরা আরো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রতিদিনই ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তার পক্ষে লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও নির্বাচনী জনসভা করছেন। সৈয়দ আশরাফের পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন তার ভাই-বোন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম, ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, ড. সৈয়দ শরীফুল ইসলাম, সৈয়দ জাকিয়া নূর লিপি ও সৈয়দ রাফিয়া নূর লোপা।
অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোঃ রেজাউল করিম চুন্নু ও তার কর্মী-সমর্থকরাও ঘরে বসে নেই। এই আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ’৯৬ সালের পর থেকে আর তারা বিজয়ী হতে পারেননি। তবে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলাতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এইবার তারা এই সংসদীয় আসনটি পুনরুদ্ধার চান। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও ব্যাপক ধর-পাকড়ের অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সমস্ত অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাজহারুল ইসলাম।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আরো যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন, জেএসডির মুহা. আব্দুর রহমান অ্যাডভোকেট (তারা), সিপিবির মোঃ এনামুল হক (কাস্তে) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ মহিউদ্দিন (হাতপাখা)। শুধুমাত্র মাইকিং ছাড়া আর তাদের তত্পরতা লক্ষ্য করা যায় না।
