পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এমপি কৃষ্ণা বসু মারা গেছেন

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৫২

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এমপি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভ্রাতৃস্পুত্রবধূ কৃষ্ণা বসু মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। শনিবার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবনাবসান হয়। তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। রাতে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কৃষ্ণা বসুর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। গান স্যালুট দেওয়া হয়। তার দুই পুত্র সুগত বসু, সুমন্ত বসু এবং কন্যা শর্মিলা বসু রয়েছেন।

কৃষ্ণা বসুর জন্ম ১৯৩০ সালের ২৬ ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতের ঢাকা শহরে। বাবা চারু সি. চৌধুরি, মা ছায়াদেবী চৌধুরি। বাবা ছিলেন সাংবিধানিক অধ্যয়ন বিশেষজ্ঞ এবং পশ্চিমবঙ্গীয় আইন পরিষদের সচিব। শরত্চন্দ্র বসুর পুত্র শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন বিধায়ক ডা. শিশির বসুর স্ত্রী কৃষ্ণা বসু। বসু বাড়ির বধূ হওয়ায় অনেক আগেই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সুভাষচন্দ্র বসু ও শরত্চন্দ্র বসুর অবদান সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা ছিল। তার কাকা প্রখ্যাত লেখক নীরদচন্দ্র চৌধুরি শরত্চন্দ্র বসুর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন।

কলকাতার সিটি কলেজের অধ্যক্ষা ছিলেন কৃষ্ণা বসু। ছিলেন ৩ বারের এমপি। ১৯৯৬ সালে জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে। পরে ১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে। নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর অন্যতম কর্ণধার ছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপারসনের দায়িত্বও সামলেছেন। লখনউয়ের ভাতখণ্ড সংগীত ইনস্টিটিউট থেকে সংগীত-বিশারদ ডিগ্রি অর্জন করেন। ট্রাস্ট অব ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথেরও প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অমর্ত্য সেন বলেন, তার কাছ থেকে আমরা অনেকে অনেক বিষয়ে জেনেছি। শুধু রাজনীতিই নয়, সমাজনীতি, সভ্যতা, বাঙালির ঐতিহ্যের বিষয়েও জেনেছি। কৃষ্ণা বসুর পুত্র সুগত বসু আমার সহকর্মী, বন্ধু। তার পক্ষে এটা বড়ো রকমের শোকের ঘটনা।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, পুরনো আমলের সৌজন্যবোধ বহন করতেন। স্নেহশীল ছিলেন। এত সুন্দর কথা বলতেন, শুনলে প্রাণ জুড়িয়ে যেত। কিছুদিন আগেই আমি পুরস্কার নিয়েছিলাম তার হাত থেকে। যতটুকু দেখেছি তাতেই শ্রদ্ধা হতো। আমাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন।