রাশিয়ার মস্কোতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০ পালন করা হয়েছে। মহান এ দিনটি পালনের জন্য মিশন বিস্তারিত কর্মসূছি গ্রহণ করে।
দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে। দিনের প্রথম প্রহরে মিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব কামরুল আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। এরপর দূতাবাস প্রাঙ্গনে একটি সংক্ষিপ্ত দোয়া ও মোনাজাত পর্ব আয়োজিত হয়।
সন্ধ্যার কর্মসূচির শুরুতেই মান্যবর রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে উপস্থিত মিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারবর্গ দূতালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রবাসী বাংলাদেশীগণ এবং বিদেশী অতিথিবৃন্দরাও শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করেন।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনান মিশনের কর্মকর্তারা। অতঃপর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরী একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয় যেখানে মুজিববর্ষ উদযাপনকল্পে বইমেলায় আয়োজিত স্টলে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেখানো হয়।
রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান তার বক্তব্যে মহান ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্বের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব আলোচনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তা অব্যাহত রাখায় প্রবাসী বাঙালিদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবার জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
এরপর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবং আমন্ত্রিত বিদেশী অতিথিবৃন্দ একক ও সমবেত সংগীত, আবৃত্তি ইত্যাদি পরিবেশনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন এবং বাংলাসহ সকল মাতৃভাষার প্রতি তাদের ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন। উপস্থিত শিশু-কিশোরেরাও একটি আবৃত্তি ও গান পরিবেশন পর্বে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ঐতিহ্যবাহী দেশী খাবারের আয়োজনে নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয়।
ইত্তেফাক/আরকেজি
