সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশপত্র স্বাক্ষর

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১০

বিবিসি ও এএফপি

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশপত্র রবিবার স্বাক্ষর করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এই তথ্য দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না করে মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘নির্দেশপত্রটি স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলো।’

সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ঘোষণা সংশ্লিষ্টদের বিস্মিত করেছে। সমালোচকরা মনে করেন, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তের কারণে সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ কোনও সমাধানে পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রক্রিয়া খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক মিত্ররা অপরিপক্ব বলেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চলকে আইএস আবারো অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমন হয়েছে।

এরকম অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ঘোষণা দেন, তিনি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করবেন। পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধের জের ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিরোধের অন্যতম কারণ হচ্ছে, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তান থেকে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার বিষয়টি। ক্ষুব্ধ  ট্রাম্প দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাথিসকে দুই মাস আগেই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আফগানিস্তান থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা দেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক আইএস বিরোধী জোটে নিযুক্ত মার্কিন দূত ব্রেট ম্যাকগুর্কও পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গভীর হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তার মিত্রদের ওপর ভরসা রাখতে হবে। তিনি ট্রাম্পকে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করেন। ম্যাত্রেঁদ্ধা জানিয়েছেন, ফরাসি সেনা সিরিয়া ও ইরাকে অবস্থান করবে। তিনি বলেন, ‘মিত্র মানেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা। একটি রাষ্ট্রের প্রধান ও সামরিক বাহিনীর প্রধানের জন্য বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ম্যাক্রোঁ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরোধী জোট ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোসের্র’ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আইএস দমনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি সবাইকে বলতে চাই, তাদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না।’