মোহাম্মদ শরীফ
বর্তমান সময়ে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের বেশ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে মুহূর্তের ঘটনা হাতের নাগালে দিচ্ছে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। তাই এই খাত ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রাহকও সংবাদ প্রচারে বেছে নিচ্ছে অনলাইন মাধ্যম। দ্রুত সংবাদ হাতের নাগালে পাওয়া যেমন সুখের, তেমনি অনলাইন মাধ্যম অস্বস্তিও তৈরি করছে। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় প্রচার রূপ নেয় অপপ্রচারে। আর এই অপপ্রচার থেকে সহজে ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি, বাড়াচ্ছে অপরাধ। এর একটা উদাহরণ হলো, পদ্মা সেতুতে মাথাতত্ত্ব। আর সেই থেকে ছেলেধরা বিভ্রান্তি। তাতেই একাধিক নিরীহ প্রাণ ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা। অপপ্রচার ধর্মীয় আবেগে কম প্রসার হয়নি। কক্সবাজারে রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলবীবাজার উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু একটি অনলাইন পোর্টালের লিংক শেয়ার করে। তার হেডলাইন ছিল অনেকটা উত্তেজনায় পূর্ণ। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কুমিল্লায় হিন্দুরা মসজিদের জানালা ভেঙে ঢুকে কোরআন শরিফ ছিঁড়ে ফেলেছে ; মসজিদে পায়খানা করেছে। আর লেখা হয়েছে, মুসলিম হলে শেয়ার করুন।’ বাঙালি জাতি হিসেবে বেশ আবেগী। আমার বন্ধুও সেই পরিচয় দিয়েছে। যদিও শেষে আমার কমেন্ট পরে পোস্টটি ডিলেট করে দিয়েছে। এভাবেই বেনামি অনলাইন পোর্টালগুলোতে প্রচারের নামে অপপ্রচার চলে আসছে। প্রাচীনকালে সংবাদ প্রচারে ভিন্ন মাধ্যম অনুসরণ করা হতো। এক এলাকার খবর অন্য এলাকায় হেঁটে গিয়ে প্রচার করা হতো। খবরদাতা মুখরোচকভাবে ছন্দে তাল মিলিয়ে সে খবর প্রচার করতেন। শ্রোতারা সে খবর শুনে খবরদাতাকে সম্মানী দিতেন। রাজারা খবর প্রচারে সৈন্য পাঠাতেন। সৈন্যরা বাদ্য বাজিয়ে সে খবর প্রজাদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতেন। বলা হয়ে থাকে,তারাই সাংবাদিকদের আদি পুরুষ। এরপর এই খাতে কাগজ, রেডিও, টিভি সর্বশেষ ইন্টারনেটের সংযুক্তি ঘটেছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রচার, অপপ্রচার ও অতিরঞ্জিত প্রচার নতুন কিছু নয়। প্রথমটি বাদ দিলে, শেষের দুটি দেশ ও দশের জন্য অমঙ্গলের। এই অমঙ্গল রোধে সংবাদমাধ্যমকেই কাজ করতে হয়। কেননা, এই দায়িত্ব শাসক নিলে তা হয়ে উঠবে হিতে বিপরীত। তখন খারাপের সঙ্গে ভালো সংবাদ মাধ্যমও বন্ধ হয়ে যাবে। একজন সম্মানিত ব্যক্তির মানহানি করতে কিংবা উত্তেজনা ছড়াতে, আগাছার মতো গজিয়ে ওঠা অনলাইন পোর্টালই যথেষ্ট। স্বীয় স্বার্থ হাসিলে তা করাও হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এসব পোর্টালের হাতে জিম্মি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিকারের সহজ পথ জানা না থাকায়, এর থেকে ফায়দা নিচ্ছে এসব পোর্টালের নামধারী সাংবাদিক। এর মধ্যে আরো আতঙ্কের নাম হলো ইউটিউব টিভি। ‘টিভি’ নামে একটি চ্যানেল খুলে মানুষের কাছে পরিচয় দেওয়া হয় সাংবাদিক হিসেবে। মানুষ জানে না এর থেকে মুক্তির উপায় কি? তাই এসব নামধারী সাংবাদিক টাকার মাধ্যমে অনেকে সমাধানের পথে হাঁটেন। এই হাঁটাটা তাকে বাধ্য হয়েই হাঁটতে হচ্ছে। এটা সত্যিই বেদনাদায়ক। এসব অনলাইন মাধ্যমকে নীতির আওতায় আনা উচিত।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ,
কুমিল্লা
