ঢাকা-১০ উপনির্বাচন

নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পোস্টারিং ও মাইকিং করা যাবে না

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১৭

ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচনে পাঁচটির বেশি পথসভা করতে পারবেন না প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো। কখন কে পথসভা করবে তা সমম্বয় করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া অলি-গলি ও রাস্তাঘাটে পোস্টার ও মাইকিং করা যাবে না। ইসির নির্ধারিত ২১টি স্থানে স্ট্যান্ডে পোস্টার ঝুলাবেন প্রার্থীরা। মাইকিং হবে নির্বাচনী ক্যাম্প ও নির্দিষ্ট স্থানে। এ নির্বাচনে প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলো কোনো জনসভা করতে পারবে না। ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় অফিস খোলা থাকবে, চলবে গণপরিবহন।

এসব বিষয়ে এ আসনের প্রার্থীরা একমত হয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। গতকাল রবিবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এক মতবিনিময় সভায় এ স্মারক স্বাক্ষর হয়। এ সময় প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটারদের কেন্দ্রে আনা, এজেন্টদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরলেও তা আমলে নেয়নি কমিশন। ওই সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জানান, এ উপনির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে এ সমঝোতা সফল হলে জাতীয় নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা সংশোধন করব।

সভায় জানানো হয়, সদ্য সমাপ্ত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মাইকিং, পোস্টার, সড়ক বা ফুটপাতের উপর ক্যাম্প স্থাপনের কারণে জনদুর্ভোগ হয়। এছাড়া পোস্টারে পলিথিন ব্যবহারের ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সামনের নির্বাচনগুলোতে এসব যন্ত্রণা দূর করতে নির্বাচন কমিশন এ উদ্যোগ নিয়েছে। সভা শেষে ঢাকা-১০ আসনের ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে সবাইকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

সভার শুরুতে প্রার্থীদের উদ্দেশে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ২৫ টন পোস্টার এমনভাবে ঝোলানো হয়েছিল যে, আকাশের চাঁদ-সূর্য দেখা যায়নি। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। এছাড়া মাইকিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ক্ষতি হয়েছে। পরে প্রার্থীরা তাদের বক্তব্য দেন। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ভোটারদের সুবিধার্থে গণপরিবহন সচল রাখার অনুরোধ জানান। ভোটের আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) দেখার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম বলেন, এজেন্টদের নিরাপত্তা দেওয়া হয় না। তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়।

এ সময় সিইসি বলেন, এজেন্টদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। বিদ্যমান বিধিও সংশোধন সম্ভব নয়। কেউ এজেন্টদের বের করে দিলে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করবেন। সিইসির এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান কয়েকজন প্রার্থী। তারা নির্বাচন ব্যবস্থা ভোটারদের অনীহা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি কিঞ্চিত্ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সভায় জাতীয় পার্টি-জাপার প্রার্থী মো. শাহাজাহান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মিজানুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) আব্দুর রহিমও বক্তব্য রাখেন। ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সিইসি ছাড়াও চার কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।