প্রতিপক্ষের তিন ভাই ও মাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করলেন পুলিশ কর্মকর্তা

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১৮

কক্সবাজার প্রতিনিধি

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পারিবারিক সালিশে বসা প্রতিপক্ষের তিন সহোদর ও তাদের মাকে বীভত্সভাবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে। তার নাম বখতিয়ার উদ্দিন ভুট্টো। তার অস্ত্রের বেপরোয়া আঘাতে ক্ষতবিক্ষত দুই সহোদর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। মাথা, চোয়াল ও ডান হাতের কব্জি কেটে গিয়ে চিরপঙ্গুত্বের পথে আহতদের একজন।

১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা বৈরাগীরখীল এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রধান আসামি করে আহতদের পরিবার মামলা করে। কিন্তু অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা উলটো তার স্ত্রী এবং ঐ মামলার আসামি রেহেনা পারভিন লিপিকে বাদী বানিয়ে আহতদের আসামি করে থানায় পালটা মামলা করেছেন। ফলে ঘটনার সাত দিন অতিবাহিত হলেও আহতদের মামলার প্রধান আসামি হওয়া ঐ এএসআই গ্রেফতার হননি। গুরুতর আহতরা হলেন, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রং মহল এলাকার মরহুম ডা. আবু তাহেরের ছেলে হাফেজ আবু দারদা (৩৫), আবদুল্লাহ আল নোমান (৩০), কামরুল হাসান, তাদের মা রহিমা আক্তার ও তার ছেলের বউ ইয়াছমিন আক্তার। এদের মধ্যে আবু দারদার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আর ঘাঁড়ের ধমনির বেশ কিছু অংশ কেটে গেছে আবদুল্লাহ আল নোমানের। হামলাকারী এএসআই বখতিয়ার ও আহতরা        সম্পর্কে মামাত-ফুফাত ভাই। তিনি বর্তমানে উখিয়ার ময়নারঘোনা ক্যাম্পে দায়িত্বরত।

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান ঘটনা এবং মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উভয় মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এক ঘটনায় দুটি মামলা নেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওসি বলেন, দুই পক্ষ আত্মীয়। খোঁজ নিয়ে জেনেছি হামলার ঘটনা নোমানরাই শুরু করে। কিন্তু পুলিশ সদস্য বখতিয়ার ওভাবে কুপিয়ে গুরুতর অপরাধ করেছেন। তার শাস্তি অবধারিত। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানিয়েছি। তার কর্মস্থলে সেই তথ্য পৌঁছালে হয়তো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে বখতিয়ারের ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।