খাবারদাবারের ব্যাপারে অনেকেই খুব সচেতন। প্রায়ই দেখা যায় শাক-সবজি খান, খুব হিসেব করে খান মাছ কিংবা মাংস। আমাদের দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে মাছের গুরুত্ব অনেক বেশি।
প্রতি সপ্তাহে যারা তৈলাক্ত মাছ খান, বিশেষ করে যেসব মাছে আছে প্রচুর ওমেগা-৩ মেদ অম্ল—এদের করোনারি হূদেরাগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে ৩৬ শতাংশ। যারা নিয়মিত মাছ খান, তাদের স্ট্রোক, বিষণ্নতা, বয়সের কারণে মগজের অধোগতি ঝুঁকি কম। অনেক ক্রনিক অবক্ষয়ী রোগের শঙ্কাও তাদের কম। শীতল পানির মাছের কথাই বেশি বলা হয়, যেমন—স্যামন, ট্রাউট, টুনা, তেলাপিয়া। আবার এসব মাছ খামারেও হয়। বিশেষজ্ঞরা দেখছেন, খামারে চাষ করা এসব মাছের মধ্যে কোন মাছটি কম হূদস্বাস্থ্যকর, বলছেন তেলাপিয়া মাছের কথা। এতে নাকি ওমেগা-৩ মেদ অম্ল কম, সে জন্য কম হূদস্বাস্থ্যকর টুনা, স্যামন, ট্রাউট মাছের চেয়ে। তেলাপিয়ায় বেশি আছে ওমেগা-৬ মেদ অম্ল—এই অম্লও স্বাস্থ্যকর বটে।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, হূদসুখের জন্য সপ্তাহে মাছের অন্তত দুটো সার্ভিং অবশ্য চাই। প্রতিটি সার্ভিং মানে ৩ দশমিক ৫ আউন্স রান্না করা মাছ বা ৩-৪ কাপ (এক কাপের চার ভাগের তিন ভাগ) মাছ।
যদিও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সপ্তাহে ৮ আউন্স মাছ খাওয়ার। মিষ্টি পানি বা লোনা পানি—দুটোরই মাছ।
মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যকর, বিশেষ করে হূদস্বাস্থ্যকর। কারণ এতে রয়েছে ওমেগা-৩ মেদ অম্ল। মাছ ও মাছের তেলে যে ধরনের ওমেগা-৩ মেদ অম্ল রয়েছে, এর নাম হলো ইপিএ ও ডিএইচএ। মাছে আছে ওমেগা-৬ মেদ অম্লও। স্বাস্থ্যের জন্য এ-ও ভালো।
ওমেগা-৩ শরীরে বিশেষ তৈরি হয় না, তাই এর জোগান লাগে। ওমেগা-৬ শরীরে আসে মাছ ছাড়াও অন্যান্য উত্স থেকে।
শামুকজাতীয় মাছে চর্বি সবচেয়ে কম। অবশ্য চিংড়ি মাছের মগজে খুব কোলেস্টেরল রয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরের স্যামন মাছে ওমেগা-৩ মেদ অম্ল সবচেয়ে বেশি। ৪ আউন্স স্যামন মাছে ১২০০-২৪০০ মিলিগ্রাম ওমেগা-৩ মেদ অম্ল আছে। নদী আর সমুদ্রের মাছের চেয়ে খামারে চাষ করা মাছে ওমেগা-৩ মেদ অম্ল কম—এ কথাও ঠিক নয় পুরোপুরি।
কিছু প্রজাতি যেমন স্যামন, ম্যাকবিল, হেরিং, ট্রাউট—এরা খামারে হোক বা খরস্রোতা নদীতে বা সাগরে হোক, ওমেগা-৩ বেশি থাকে।
মাছের ছাল বা চামড়া ছাড়িয়ে ফেললে কীটনাশক যেমন— পিসিবি বা ডায়োক্সিন দূষণ অনেক কমে যায়। সামুদ্রিক মাছ বেশ স্বাস্থ্যকর; তবে অনেকের অ্যালার্জি হয়। চিংড়ি, শামুক, কাঁকড়াতে অনেকের অ্যালার্জি। মাছ ভাজা স্বাস্থ্যকর নয় বলে জানা যায়। সেঁকা, ভাপে সেদ্ধ ও ঝলসানো মাছ সবচেয়ে ভালো।
