l তন্ময় মির্জা
আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের উন্নতি সাধন ও পুনরুজ্জীবনের জন্য টি.এস. ইভেন্ট-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ‘আন্তর্জাতিক তাঁতি উত্সব’। গত শনিবার সাঁতারকুল, পাঁচখোলা (মাদানী এভিনিউ)-তে অনুষ্ঠিত চতুর্থ আন্তর্জাতিক তাঁতি উত্সবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এবারের আয়োজন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শর্তবর্ষ উপলক্ষে বিশেষভাবে একটি ভিন্ন থিমের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছিল।
উত্সবের আহ্বায়ক টুটলী রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ ক্রাফটস ফাউন্ডেশন বিভিন্ন ডিজাইনের এবং সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের অধীনে প্রশিক্ষণ (খুব ছোট আকারে) শুরু করেছে এবং কীভাবে এটি ক্রেতাদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা যায় সেই লক্ষে কাজ করছে’। সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন ‘হেরিটেজ ভিলেজ’ করার জন্য জায়গা বরাদ্দের জন্য।
বাংলাদেশের তাঁতি ও শিল্পীদের শিল্পকর্মের মিলনে অপূর্ব শিল্পকর্মের সৃষ্টি হয়েছে ‘শিল্পীর ভাবনায় বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের খাদি, সিল্ক, মসলিন, জামদানি, মিরপুরী বেনারসি, সুতির কাপড়ে ফুটে উঠেছে শিল্পকর্ম। অনুষ্ঠানে ফ্যাশন শো’তে চিত্রশিল্পী কনক চানপা চাকমা, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী জামাল আহমেদ, ফোক আর্ট, পট-চিত্র, রিকশা আর্ট, পুরান ঢাকা ইত্যাদির চিত্রকর্মের ছাপগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও জামদানি, মসলিন এবং মিরপুর বেনারশি পোশাকের অনন্য উপস্থাপনা নিয়ে হাজির হয়েছিল ব্রাইডাল কালেকশনস।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেন দূতাবাস মিশনের উপ-প্রধান এমিলিয়া সেলেমিন রেদেন্দো।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে প্রথম তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক তাঁতি উত্সব’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল আর্মি মিউজিয়ামে। ২০১৭ সালে এক দিনব্যাপী দ্বিতীয় ‘আন্তর্জাতিক তাঁতি উত্সব’ অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-র এক্সপো জোনে এবং ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও এক দিনের ইভেন্ট বনানী রাজউক মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে কেবল তাঁত শিল্পকেই নয়, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান, খাদ্য সহ বাংলাদেশের সব ধরনের ঐতিহ্যকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ ক্র্যাফ্্্ট ফাউন্ডেশন’ গঠিত হয়।
