আওয়ামী লীগের ১১ বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৮

এখনো ভোটের মাঠ ছাড়েনি আওয়ামী লীগের ১১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। বোঝানো, দলীয় প্রধানের বিশেষ অনুরোধ, কেন্দ্র থেকে সর্তকবার্তা ও আজীবন বহিস্কারের হুঁশিয়ারির পরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তে তারা অটল রয়েছেন। প্রচারণাও চালাচ্ছেন জোরেশোরে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলীয় কোন নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাকে বিদ্রোহী হিসেবে ধরে নেয় আওয়ামী লীগ। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, দল থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্র থেকে মাঠের পরিস্থিতি আরো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিনা- সে বিষয়টি কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। তিনি বিদ্রোহীদের ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। 

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলীকে না মেনে নৌকার বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়েছেন দলটির সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক। তার মার্কা মোটরগাড়ি। তিনি এখনও নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন। গাইবান্ধা-১ আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মানতে চাচ্ছেন না উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইমদাদুল হক। তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন এবং তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণাও চলছে জোরেশোরে। পিরোজপুর-৩ আসনে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির (জাপা) রুস্তম আলী ফরাজীকে মানছেন না সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুর রহমান। মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে তিনি প্রার্থী হয়েছেন আপেল প্রতীকে। যশোর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্যের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে আছেন দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক কায়সার হাসান বারীও। তার মার্কা ‘ঢাক’।

নরসিংদী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পাওয়া জহিরুল ইসলাম মোহনকে না মেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। ২০১৪ সালেও মোহনের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয় পান সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। তার মার্কা সিংহ। তিনি বলেন, ‘আমি মাঠে আছি, মাঠে থাকব। নেতাকর্মীদের ইচ্ছার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’ মাদারীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আল আমিন মোল্লা ‘সিংহ’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির (জাপা) লিয়াকত হোসেন খোকাকে না মেনে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার।

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাসকে মানতে চাইছিলেন না জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিনের ছেলে পৌর মেয়র ফয়সাল বিপ্লব। তবে তিনি ভোটে দাঁড়াননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তার স্ত্রী চৌধুরী ফাহরিয়া আফরিন। তিনি একতারা প্রতীকে ভোটের লড়াইয়ে আছেন। ফেনী-১ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাসদের শিরিন আখতার। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ। লক্ষ্মীপুর-২ আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির (জাপা) মোহাম্মদ নোমানের পাশাপাশি প্রার্থী হয়েছেন কুয়েত আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পাপুল। পাপুলের পক্ষে এলাকায় চলছে প্রচার।