মাঠে না এসে ফাঁকা বাক্যালাপে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না ----- আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৮

জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ঢাকায় বসে যারা নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে কথা বলেন তারা কেন্দ্রে গিয়ে যদি ভোট না দেন তাহলে কিভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। নির্বাচনী মাঠে এসে প্রচার-প্রচারণা না করে গণমাধ্যমে ফাঁকা বাক্যালাপে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বড় বড় ব্যারিস্টার বা আন্তর্জাতিকমানের আইনজ্ঞগণের উচিত হবে বিশ্বাসযোগ্য করে অভিযোগ-আপত্তি উত্থাপনসহ নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে মন্তব্য করা।

তিনি গতকাল সোমবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ ও জেপি আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ  কথা বলেন। পিরোজপুর-২ আসনে (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানি) ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী হিসাবে তার নির্বাচনী প্রতীক বাইসাইকেল মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সবাইকে দলে দলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। স্বাধীনতার সুফল লাভের জন্য নৌকা ও বাইসাইকেলে ভোট দিতে হবে। সারা বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জোট ও মহাজোটের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। পিরোজপুর-২ আসনে জোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী হিসেবে আমি বাইসাইকেলে ভোট চাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানির অধিবাসীদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। এই জন্য এলাকাবাসীর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে হবে। এখানকার মানুষকে বিশ্বাস করে প্রধানমন্ত্রী বাইসাইকেল প্রতীকে আমাকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে অবশ্যই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। যারা আমাদের সাথে প্রার্থী হয়েছেন তাদের বলতে চাই, আপনারা নির্ভয়ে ভোটের প্রচার-প্রচারণা করুন। মানুষের কাছে যান, পরিচিত হন, মানুষকে আপনারা চেনেন না, তারাও আপনাদেরকে চেনেন না। ভোটের মাঠে থেকে গণসংযোগ না করে ঢাকায় গিয়ে টিভি সংবাদপত্রে অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা না বলে মাঠে আসুন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, এদেশের মানুষ স্বাধীনতা চেয়েছে, তাদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য। রাস্তা-ঘাট হবে, মানুষ বিদ্যুত্ সুবিধা পাবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও পরিবেশগত উন্নতি হবে, কর্মসংস্থান পাবে এই ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের উদ্দেশ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয়দফা আন্দোলন, ৭০’র নির্বাচন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। স্বাধীন দেশের রাজনীতি হবে দেশ গড়ার, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের। আমি যখন এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভায় জ্বালানি ও বিদ্যুত্ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলাম তখন ভাণ্ডারিয়ায় বিদ্যুত্ সাবস্টেশন তৈরি হয়। এখান থেকে মঠবাড়িয়া-ভাণ্ডারিয়া-বামনা-পাথরঘাটা-কাঠালিয়া প্রভৃতি উপজেলায় বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে। ভাণ্ডারিয়ায় আরেকটি সাবস্টেশন তৈরি হচ্ছে বিদ্যুত্ সরবরাহ নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য। এরপর যোগাযোগ মন্ত্রী হয়ে এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট তৈরি করেছি। আমরা যে উন্নয়নের সিঁড়ি তৈরি করে গেলাম তা দিয়ে আগামীদিনের বাংলাদেশ উপরে উঠতে থাকবে। উন্নয়নের কোনো শেষ নেই। এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের ধারার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। ভাণ্ডারিয়াসহ এ এলাকায় কাইজ্যা-ফ্যাসাদ, ঝগড়া-ঝাটি নেই। আমারা নিজেরা ঝগড়া করি না, অন্যদেরও করতে দেই না। এখানকার মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে ভূমি দস্যুদের প্রশ্রয় দেয় না। কেউ ষড়যন্ত্র করলে, নৈরাজ্য করলে রাষ্ট্রের নিয়মনীতি ব্যবহার করে তা প্রতিহত করা হয়। আমাদের প্রতি আল্লাহর রহমত রয়েছে, মুরব্বীদের দোয়া রয়েছে, যাতে আমরা সুখে-শান্তিতে থাকতে পারি।  

ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্নার সভাপতিত্বে এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, জেপি’র উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ভাণ্ডারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা পার্টির সভানেত্রী আসমা আক্তার, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক, সমাজসেবী বীরেন্দ্রনাথ বসু, কেন্দ্রীয় যুব সংহতির সহ-সভাপতি কামাল খান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম হাওলাদার, ইউনিয়ন জেপি’র সাধারণ সম্পাদক রেজা আহমেদ দুলাল, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক তালুকদার এনামুল কবির টিপু, উপজেলা যুব সংহতির যুগ্ম আহ্বায়ক বাহাদুর সরদার প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে ছিলেন উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইকড়ি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির হাওলাদার, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুুুগ্ম আহ্বায়ক সফিক মান্নান, জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য রোকেয়া বেগম প্রমুখ।

জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল রাতে দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। পৌরসভা সহায়তা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর সভাপতিত্বে  এখানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, জেপি’র সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু, উপজেলা সমবায় লীগের সভাপতি মীর খলিলুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন, জেপি নেতা গোলাম কবির নান্টু, যুব সংহতির নেতা নাসির উদ্দিন দুলাল সরদার ও স্কুল শিক্ষিকা ইলাবতী মালি প্রমুখ। এ নির্বাচনী বৈঠকে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে।