মুহাম্মদ কামালুদ্দিন, লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা
বান্দরবানের লামা উপজেলার শিলেরতুয়া-রূপসী পাড়া সড়কে মাতামুহুরী নদীর ওপর ১৮৪ মিটার পিসি এবং আরসিসি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণকাজ থমকে আছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রিজের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করার মেয়াদ নির্ধারণ করা থাকলেও নির্মাণকাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন ব্রিজের কাজের বর্তমান অগ্রগতি ৩০% সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প পার্বত্য চট্টগ্রাম ২য় পর্যায় এর আওতায় গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকার এই কাজের জন্যে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। গত বছর ১৪ এপ্রিল ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রিজের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
রূপসী পাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মো. আবু তাহের ও একই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি মেম্বার মো. রমজান আলী জানান, ব্রিজের নির্মাণকাজের শুরুতেই নিম্নমানের পাথর দিয়ে সব ফাইলিং নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ অভিযোগ দিলেও সংশ্লিষ্টগণ কর্ণপাত করেননি।
পশ্চিম শিলেরতুয়া বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংনুপ্রু জানান, ব্রিজ নির্মাণে বৌদ্ধ বিহারের ৩০ শতক জমি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বহু বনজ ও ফলদ বাগানের ক্ষতি হয়েছে। বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি ভূমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭ লাখ টাকা দাবি করছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, টাকা না দেওয়ায় নির্মাণকাজে ব্যবহূত এক্সকাভেটর তুলে দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক এম এ জাহের জানান, ব্রিজের নির্মাণকাজে ভূমি জটিলতাসহ স্থানীয়ভাবে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুতগতিতে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্রিজের সিডিউলে ভূমির টাকা পরিশোধ করার মতো কোনো অর্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়নি।
নির্মাণকাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ব্রিজের ৭০টি ফাইলিং, চারটি বেইজ ও তিনটি ক্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। কাজের বর্তমান অগ্রগতি ৩০% সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান। রূপসী পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাচিংপ্রু জানান, বর্তমান গতিতে কাজ চললে নির্ধারিত সময়ে ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ হবে না। এ সময়ে কাজের যে পরিমাণ অগ্রগতি হওয়ার কথা সরেজমিনে সেই পরিমাণ অগ্রগতি হয়নি। গত নভেম্বরের পর থেকে দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান। ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান, বর্তমানে কিছু নির্মাণ শ্রমিক আসলেও কাজের তেমন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দিন জানান, নির্মাণ শ্রমিকদের পারিশ্রমিক না দেওয়ায় শ্রমিকরা কাজ ফেলে চলে গেলেও কিছুদিন পর আবার ফিরে এসেছে। এছাড়া ভূমি জটিলতার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী যেন ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এলজিইডি বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী এন এস এম জিল্লুর রহমান জানান, ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি তার জানা নেই।
