তামিমের পাশে
মুমিনুল
সেঞ্চুরির দুয়ারে থেকেই প্রথম দিন শেষ করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দিনে তিন অঙ্কের মাইলফলকে পৌঁছানোর জন্য বাকি থাকা ২১ রান পূরণ করতে খুব বেশি সময় নিলেন না মুমিনুল হক। দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই নিজের ইনিংসের ১৫৬তম বলে তিনি করে ফেলেন সেঞ্চুরি। এটা তার ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি। সমান নয়টি সেঞ্চুরি করেছেন ওপেনার তামিম ইকবালও। যদিও, তামিম ইকবাল সেটার জন্য খেলেছেন ৬০টি টেস্ট। আর মুমিনুল নবম সেঞ্চুরি করলেন ৪০ টেস্টেই। মানে, ২০ টেস্ট কম খেলেই তিনি তামিমের পাশে চলে এলেন। এর মধ্যে তামিম খেলেছেন ১১৪টি ইনিংস, আর মুমিনুল খেলেছেন মাত্র ৭৩টি ইনিংস। মুমিনুলের অভিষেকও হয়েছে তামিমের পাঁচ বছর পর। এখানেই শেষ নয়, এই ইনিংসটা খেলতে গিয়েই টেস্টে রানের দিক থেকে মুমিনুল ছাড়িয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। অধিনায়কের ইনিংস থামে ১৩২ রানে গিয়ে।
অ্যালান ল্যাম্বের
পর...
আশি ও নব্বই দশকের সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালান ল্যাম্বের টেস্ট ক্যারিয়ারে ছিল ১৪টি সেঞ্চুরি। এর মধ্যে প্রথম নয়টাই তিনি করেছিলেন দেশের মাটিতে। দেশের মাটিতে ক্যারিয়ারের প্রথম নয়টি সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এতকাল তিনিই ছিলেন একমাত্র। গতকালই সেই তালিকায় নতুন সঙ্গী পেলেন ল্যাম্ব। যোগ হলেন বাংলাদেশের মুমিনুল হক। ল্যাম্বের মতো মুমিনুলও প্রথম নয়টি সেঞ্চুরির সবগুলোই দেশের মাটিতে করেছেন।
১০ ইনিংস পর
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি। হ্যামিল্টন টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২৯ রান করেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে এক বছর। বাংলাদেশ খেলেছে আরো পাঁচটি টেস্ট। আফগানিস্তান খেলে গেছে বাংলাদেশে এসে। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো দুই টেস্টেও সফর করেছে ভারতে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ঐতিহাসিক দিবারাত্রীর টেস্টও খেলেছে। এরপর অনেক জল ঘোলার পর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়েও খেলেছে এক টেস্ট। অথচ এই সময়ে ৪০০ বা ৩০০ তো দূরের কথা, ২৫০-এর ওপরও কোনো ইনিংসে করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। সর্বোচ্চ ২৩৩ করেছিল গেল পাকিস্তান সফরে। তবে, সেই রানখরা কাটলো দেশের মাটিতে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। মিরপুর টেস্টেও প্রথম ইনিংসে আবারও বড়ো স্কোরের দেখা পেল বাংলাদেশ। ছয় উইকেটে ৫৬০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
রিভিউয়ের
বিনিময়ে ‘নো’
মধ্যাহ্নভোজনের বিরতির পর তৃতীয় ওভার। মুশফিকুর রহিম ততক্ষণে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি পেয়ে গেছেন। ডোনাল্ড তিরিপানোর আগের ওভারেই যে মুশফিক এক রান দিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, এবার তিনি টানা তিনটি চার হাঁকিয়ে ওভার শুরু করলেন। চতুর্থ বলটা ব্যাটে-বলে হল না। বল লাগে ব্যাটে। তিরিপানোর এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সারা দেননি আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন রিভিউ নিলেন। কিন্তু, রিপ্লে থেকে থার্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা দেখলেন ডেলিভারিটা আসলে ছিল ‘নো’। প্রায় খালি থাকা গ্যালারির চিত্কারের বোঝা গেল এই যাত্রায় রেহাই পেয়ে গেলেন মুশফিক।
সর্বোচ্চ ‘লিড’
নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষকে ২০০-র ওপর রানের লিড দিল বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করার আগে ছয় উইকেট হারিয়ে করে ৫৬০ রান। ফলে, লিড পায় ২৯৫ রানের। প্রথম ইনিংসে এটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের লিড। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ লিড ছিল ১২৯ রানের। ২০১৭ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচটা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের শততম টেস্ট। ম্যাচে চার উইকেটে জিতে যায় সফরকারীরা। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এই নিয়ে লিড নিল সপ্তমবারের মতো। এর মধ্যে দুইবার করে তারা লিড পেয়েছে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এর একবার করে লিড এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
মিরপুর টেস্ট
জিম্বাবুয়ে-১ম ইনিংস : ১০৬.৩ ওভারে ২৬৫/১০
বাংলাদেশ-১ম ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
তামিম ক চাকাবা ব ত্রিপানো ৪১ ৮৯ ৭ ০
সাইফ ক চাকাবা ব নায়ুচি ৮ ১২ ২ ০
শান্ত ক চাকাবা ব টিসুমা ৭১ ১৩৯ ৭ ০
মুমিনুল ক এন্ড ব এনডলোভ ১৩২ ২৩৪ ১৪ ০
মুশফিক অপরাজিত ২০৩ ৩১৮ ২৮ ০
মিঠুন ক চাকাবা ব এনডলোভ ১৭ ২৩ ৩ ০
লিটন ক চাকাবা ব রাজা ৫৩ ৯৫ ২৮ ০
তাইজুল অপরাজিত ১৪ ১৯ ১ ০
অতিরিক্ত (বা-৮, লে বা-৩, নো- ৫, ও-৫) ২১
মোট ( ১৫৪ ওভার) ৫৬০/৬ ডিক্লেয়ার
উইকেট পতন : ১/১৮ (সাইফ), ২/৯৬ (তামিম), ৩/১৭২ (শান্ত), ৪/৩৯৪ (মোমিনুল), ৫/৪২১ (মিঠুন), ৬/৫৩২ (লিটন)।
জিম্বাবুয়ে বোলিং :
ত্রিপানো : ৩০-৬-৯৬-১ (ও-৪, নো-২), নায়ুচি : ২৭-৩-৮৭-১ (ও-১, নো-২), রাজা : ৩০-২-১১১-১ (নো-১), টিসুমা : ২৫-২-৮৫-১, এনডলোভ : ৪২-৪-১৭০-২।
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস :
মাসভাউরি বোল্ড ব নাইম ০ ২ ০ ০
কাসুজা অপরাজিত ৮ ১৮ ০ ০
ত্রিপানো ক লিটন ব নাইম ০ ১ ০ ০
টেলর অপরাজিত ১ ৯ ০ ০
অতিরিক্ত ০
মোট (৫ ওভার) ৯/২
উইকেট পতন : ১/০ (মাসভাউরি),
২/০ (ত্রিপানো)।
বাংলাদেশ বোলিং :
নাইম হাসান : ৩-১-৪-২,
তাইজুল ইসলাম : ২-০-৫-০।
