প্রয়োজন আত্মসচেতনতা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০৯

জয় পাল

ফলের স্বাদে যেমন বৃক্ষের মাহাত্ম্য, ফুলের সৌন্দর্যে যেমন বাগানের ঐশ্বর্য, ঠিক তেমনি নাগরিকের অগ্রগতিতে দেশমাতৃকার বিভূষণ।

একটি দেশের স্বর্ণালী অতীত যেমন নাগরিকের সচেতন মনের সৃষ্টি, অনুরূপভাবে একটি দেশের অদূর গৌরবোজ্জ্বল ভবিষ্যত্টাও হবে নাগরিকের সচেতনতাবোধের ফসল। আর এই সচেতনতাবোধটাই পালটে দিতে পারে আমাদের জীবনমান, পালটে দিতে পারে দেশের অর্থনীতির মোড় ; ত্বরান্বিত করতে পারে দেশ উন্নয়নে গতিধারা!

একটি দেশের জনগোষ্ঠীই হচ্ছে দেশটির প্রাণশক্তি। অন্যদিকে তুমি-আমি এবং আমাদের সকলের সমষ্টিই হচ্ছে দেশের মোট জনগোষ্ঠী। তাই পরোক্ষভাবে বলতে গেলে তুমি, আমি এবং আমরা সকলি হচ্ছি একটি দেশের প্রাণশক্তি। আর সেই প্রাণশক্তিটাই যদি হয় নিস্তেজ, সচেতনতাবিমুখ, তবে কী একটি দেশের সার্বিক অগ্রগতি আদৌ সম্ভব? নিশ্চয়ই না।

উল্লেখ্য, আমাদের সকলেই যে নিজেকে নিয়ে অসচেতন তেমনটিও নয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই বেশ আত্মসচেতন এবং তারা নিজেদের বেশ এগিয়ে নিচ্ছেনও বটে। কিন্তু এটা নিতান্তই দুঃখজনক যে, সেই সচেতন মননশীলতার অধিকারী লোক এই দেশ ও সমাজে অতি অল্পই। ফলে দেশের অল্পসংখ্যক লোকের এগিয়ে যাওয়াটা, একটি দেশের এগিয়ে যাওয়া বললে প্রায় ক্ষেত্রেই ভুল হবে। বরং দেশের মোট জনগোষ্ঠীর এগিয়ে যাওয়াটাই দেশটির এগিয়ে যাওয়া বলে বিবেচ্য হবে।

এ বিষয়ে আমরা সকলেই অবগত যে, সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বুকে আমরা আজ একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক বলে পরিচয় দিয়ে আত্মসম্মানবোধ করি। তবে এই আত্মসম্মানবোধের অন্তরালে একটা লজ্জ্বাবোধ থেকেই যায়, তা হলো আজও আমাদের দেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, যারা দেশ উন্নয়নে নিজেদের নিজ নিজ ভূমিকা সম্বন্ধে আদৌ সচেতন নয়।

কিন্তু কী করে একটি দেশের মোট জনগোষ্ঠী এগিয়ে যেতে পারে? উত্তরটা হতে পারে এক এবং অদ্বিতীয়, আর তা হলো ব্যক্তি সচেতনতা ও সার্বিক কল্যাণবোধ। ব্যক্তির নিজের ভেতর যখন বোধ জাগবে যে আমাকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নিজেকে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, আমার শিক্ষার আলো প্রয়োজন, আমার দরিদ্রতার অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করা প্রয়োজন, আমার প্রয়োজন আত্মসম্মানবোধের, আমার প্রয়োজন পরনির্ভরশীলতা পরিহারের; সেই বোধলগ্নের কর্মপ্রয়াসেই পালটে যেতে পারে ব্যক্তি নিজে, ব্যক্তির সমষ্টি বিশাল জনগোষ্ঠী, একটি দেশ এবং একটি দেশের সার্বিক অর্থনীতি!

ফলে দেশ উন্নয়নে সরকার এবং সরকারি জনকল্যাণমূলক নীতিসমূহ যতটুকু না প্রত্যক্ষধর্মী ভূমিকা পালনে সক্ষম, তার চাইতেও বিশেষ ভূমিকা পালনে সচেষ্ট হতে পারে ব্যক্তি আত্মসচেতনতাবোধ ও জনকল্যাণ চিন্তা। কারণ আমরা এগিয়ে গেলেই, এগিয়ে যায় দেশ! আমরা বদলালেই, বদলে যায় দেশ! তাই যত দিন অবধি না দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ভেতর আত্মসচেতনতাবোধের প্রত্যয়টি ক্রিয়াশীল হবে, তত দিন অবধি দেশ উন্নয়নের ধারণাটি অমূলকই থেকে যাবে। উন্নয়ন উন্নয়ন বলে আমাদের যারা চিত্কার-চেঁচামেচি করি, তাদের অনেকেই হয়তো এ বিষয়টি অজ্ঞাত যে উন্নয়নের মূল বীজ সতত আমাদের ভিতরেই ব্যাপ্ত। যেখানে একটি বিরাট জনগোষ্ঠী চাইলেই সেই বীজ থেকে আত্মসচেতনতাবোধের চারা অঙ্কুরোদ্গম করে উপহার দিতে পারে একটি উন্নত দেশ। যদি সেই দেশটা হয় শস্য শ্যামল সোনার বাংলাদেশ! তাহলে কেমন হয়? কেই-বা তা না চায়!

n লেখক :শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট