মুশফিকময় এক দিন

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৩

টেস্ট ক্রিকেটে এক সোনালি দিন কাটাল বাংলাদেশ। সাদা পোশাকে দাপটের শাসনের, অনেক অর্জনের দিন কদাচিতই দেখা যায়। গতকাল সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মুশফিকুর রহিম ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। সেঞ্চুরি পেয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। তাতেই রানের চূড়ায় চড়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিপক্ষের রানের পাহাড়ে চাপা পড়ার পর শেষ বিকালে মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতায় ভরপুর বাংলাদেশের ক্রিকেট। গতকাল এমন অভিজ্ঞতা প্রতিপক্ষকে উপহার দিয়েছে মুমিনুল হকের দল। গতকাল মুশফিকের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি, মুমিনুলের নবম সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে             ৫৬০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মুশফিক ছাড়া বাংলাদেশের হয়ে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির কৃতিত্ব নেই আর কারো। একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি আছে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের। ডাবল সেঞ্চুরির মাধ্যমে এই ফরম্যাটে তামিমকে (৪,৪০৫) ছাড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ডটাও দখল করেছেন মুশফিক (৪,৪১৩)।  

শেষ বিকালে মাত্র পাঁচ ওভার ব্যাটিংয়ের জন্য নেমে নাঈম হাসানের ছোবলে চোখে সর্ষে ফুল দেখা জিম্বাবুয়ে ইনিংসের প্রথম ৩ বলে হারিয়ে বসে ২ উইকেট। হ্যাটট্রিক না হলেও মাসাবাউরে (০), তিরিপানোকে (০) ফিরিয়ে বাংলাদেশের জয়ের মাহেন্দ্রক্ষণকেই যেন ডেকে আনেন নাঈম। কম্পমান জিম্বাবুয়ে ব্রেন্ডন টেইলর-কাসুজার ব্যাটে ২ উইকেটে ৯ রান তুলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে সফরকারীরা। টেইলর ১, কাসুজা ৮ রানে ব্যাট করছেন। এখনো ২৮৬ রানে পিছিয়ে জিম্বাবুয়ে। বিশাল রানের চাপে চ্যাপটা জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আজই বাংলাদেশ জয় পেয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

মুশফিক-মুমিনুলের ব্যাটেই জিম্বাবুয়েকে রানের পাহাড়ে চাপা দেয় বাংলাদেশ। টেস্টে দশমবারের মতো ৫০০ ছাড়ানো স্কোর গড়ে বাংলাদেশ।  প্রথম ইনিংসে ২৯৫ রানের লিড পায় স্বাগতিকেরা। ক্যারিয়ারের তিন ডাবলের দুটিই করলেন মুশফিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এই মিরপুরেই খেলেছিলেন ক্যারিয়ার-সেরা অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংস। গতকাল করলেন অপরাজিত ২০৩ রান। 

গতকাল আরো ৩ উইকেট হারিয়ে ৩২০ রান যোগ করে বাংলাদেশ। মুশফিক-মুমিনুলরা রীতিমতো শাসন করেছেন জিম্বাবুয়ের অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনকে। অনভ্যস্ত কন্ডিশনে দিনভর নির্বিষ বোলিং করেছেন জিম্বাবুয়ের বোলাররা। গতকাল সতর্ক ব্যাটিংয়ে দিনের অষ্টম ওভারেই জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহকে ছাড়িয়ে লিড নেয় বাংলাদেশ। পরের ওভারেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। তিরিপানোকে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুমিনুল। প্রথম সেশনে ১১১ রান তোলে বাংলাদেশ।

লাঞ্চের পর ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। সেঞ্চুরির পর কিছুটা রয়ে-সয়ে ব্যাট করা মুমিনুল রির্টান ক্যাচ দেন এনলোভুর হাতে। ১৪টি চারে ১৩২ রান করেন অধিনায়ক। চতুর্থ উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে তার যুগলবন্দি থামে ২২২ রানে। সাদা পোশাকে বাংলাদেশের হয়ে এটি দশম ২০০ ছাড়ানো জুটি।

মিঠুন (১৭) স্থায়ী হতে না পারলেও মুশফিককে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন লিটন দাস। বাংলাদেশের রানের পাহাড়ে চড়ার মিশনকে বেগবান করেছে তাদের ১১১ রানের জুটি। পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি করে সিকান্দার রাজার শিকার হন লিটন। তিনি ৫৩ রান করেন। হাফ সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি, দেড়শ রানও চার মেরেই পূর্ণ করেছেন মুশফিক। ডাবলেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ইনিংসের ১৫৪তম ওভারে এনলোভুর বলে স্কয়ার কাট খেলেন মুশফিক, পয়েন্টের ফিল্ডার যা থামাতে পারেননি। বল চলে যায় সীমানার বাইরে। পূর্ণ হয় মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি। ৪৩৮ মিনিট ব্যাটিং করে ৩১৮ বল খেলে ২৮টি চারে ২০৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। জিম্বাবুয়ের এনলোভু ২টি এবং সুমা, সিকান্দার, নাউচি, তিরিপানো ১টি করে উইকেট পান।