চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে। এ অবস্থায় এটি বিশ্ব-মহামারিতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের আরো ২৮ দেশের প্রায় দেড় হাজারের মতো মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। মারা গেছে ২৭ জন। তবে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়েছে চীনে। যখন কোনো রোগ একই সঙ্গে অনেকগুলো দেশে ছড়িয়ে পড়ে তখন সেই রোগের প্রাদুর্ভাবকে বিশ্ব-মহামারি বলে ঘোষণা করা হয়। এই ভাইরাস প্রতিরোধে কোনো টিকা এখন পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি। চীনে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছে প্রায় ২ হাজার ৬১৯ জন। এদিকে করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। বিশেষ করে চীন থেকে যেসব পণ্য বা কাঁচামাল আমদানি করা হয়, তার অনেকগুলো এখন বন্ধ রয়েছে। ফলে এর প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এছাড়া ইতিমধ্যে দেশের নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণে সতর্ক করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাসে (কোভিড-নাইনটিন) আক্রান্তদের ২ থেকে ২ শতাংশ এতে মারা যাচ্ছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সঠিক হার আসলে এখনো জানা যায়নি। গতকাল সোমবার নতুন করে তিনটি দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কথা জানা গেছে। এই তিনটি দেশ হচ্ছে আফগানিস্তান, কুয়েত এবং বাহরাইন। এদের সবাই সম্প্রতি ইরান সফর শেষে ফিরেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস গেব্রেইয়েসাস হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ থামানোর সুযোগ দিনে দিনে কমছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার অধ্যাপক পল হান্টার বলেন, চীনের বাইরে অন্যান্য দেশেও যেভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। যে সময়ের পর একটি বিশ্ব-মহামারি আর ঠেকানো সম্ভব হবে না বলে মনে করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সেই সময় আরো কাছে চলে এসেছে বলেই মনে হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের লালা ও শ্লেষ্মা পরীক্ষা করে চীনা বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনা ভাইরাস যেভাবে ছড়াচ্ছে, তাতে সার্সের চেয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার সঙ্গেই এর মিল পাওয়া যাচ্ছে বেশি। আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়েও সহজে এবং দ্রুতগতিতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইরান : করোনা ভাইরাসের ৪৩টি ঘটনা ধরা পড়েছে, বেশির ভাগই পবিত্র কোম নগরীতে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে। চীনের বাইরে করোনা ভাইরাসে এত মানুষ আর কোথাও মারা যায়নি। কোমের একজন এমপি অভিযোগ করেছেন, সরকার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আসল চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে। তার মতে, কেবল কোম নগরীতেই ৫০ জনের মতো মানুষ মারা গেছে। তবে ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া : চীনের পর সবচেয়ে বেশি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এখন পর্যন্ত ধরা পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। সোমবার আরো ১৬১ জন আক্রান্ত হয়েছে সেখানে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৭৬০ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ৭০০ সেনাসদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ১১ জন সেনাসদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর দেগুতে।
ইতালি : ইউরোপে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে ইতালিতে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৬৫। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। লোম্বার্ডি এবং ভেনেটো অঞ্চলের দুটি ছোটো শহর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে সেখান থেকে আগামী দুই সপ্তাহ বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। কেউ জরুরি প্রয়োজনে যেতে চাইলে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। ইতালির দুটি ছোটো শহর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে অন্যান্য নগরীতেও।
সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত বাংলাদেশির পরিবার পাচ্ছে ১০ হাজার ডলার
সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিবারকে ১০ হাজার ডলার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে দেশটির বেসরকারি সংস্থা মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার (এমডব্লিউসি)। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে এই আর্থিক সহায়তা পাঠানো হবে। সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় কাজ করা এমডব্লিউসির সঙ্গে মিলে ৩৯ বছর বয়সি ওই শ্রমিকের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়াই-কে ইনোভেশন্স এবং লিও ডরমেটরি পরিচালনাকারী মিনি এনভায়রনমেন্ট সার্ভিসেস এই আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরার পর থেকে ওই বাংলাদেশি শ্রমিককে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।
