নাগরিকত্ব আইনের বিক্ষোভে সোমবার উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘর্ষে ৭জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বাবা ছিলেন যিনি তার বাচ্চাদের জন্য খাবার কিনতে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন। কিন্তু খাবার নিয়ে বাড়ি ফেরা হয়নি। মাঝরাস্তাতেই মৃত্যু হয় তার।
ওই বাবার নাম মুহম্মদ ফুরকান। ছোট দুটি ছেলেমেয়ের জনক তিনি।
দিল্লিতে সোমবার থেকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অশান্তি থামেনি মঙ্গলবারেও। এতে নিহত হয়েছেন পুলিশের হেড কনস্টেবল রতন লাল। এছাড়াও মৃত্যু হয়েছে আরও ৬ জনের। তাদের মধ্যেই ছিলেন মুহম্মাদ ফুরকান।
ফুরকানের ভাই মুহম্মাদ ইমরান বলছেন, ‘বিশ্বাস করতে পারছি না ভাই নেই। দুপুর বেলাও ফুরকানের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তারপর কী থেকে কী হয়ে গেল। দুঃস্বপ্নের মত লাগছে।’
ভারতীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছুদূর যেতেই সংঘর্ষের মাঝে পড়েন ফুরকান। পায়ে গুলি লাগে তার।
ফুরকানের ভাই ইমরান জানিয়েছেন, ‘একজন আমায় ফোন করে বলল ভাইয়ের পায়ে গুলি লেগেছে। শুনে কিছু বুঝতেই পারছিলাম না। তারপর বারবার ভাইয়ের ফোনে ফোন করছিলাম। কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করেনি। একটু পরে ফের ফোন আসে। বলা হয়, তার ভাইকে জিটিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভাইয়ের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে ডাক্তারদের কাছে বারবার জানতে চেয়েছিলেন ভাই কেমন আছে। ফুরকানকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছিলেন চিকিৎসকদের থেকে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছে।
সোমবারের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লি। ভাঙচুর চালানো হয়েছে দোকানপাটে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে গাড়ি এবং পেট্রল পাম্পে। অশান্তি রুখতে গোটা উত্তর-পূর্ব দিল্লি জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে পুলিশ। বন্ধ রয়েছে পাঁচটি মেট্রো স্টেশন।
ইত্তেফাক/বিএএফ

