সময়টা ২০০০ সাল। নতুন শতাব্দীর শুরু। এই শুরুটাকে আরেকটু অর্থবহ করতে আগ্রহী হলো কয়েকজন চবিয়ান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তত দিনে খুব একটা সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে ওঠেনি। কাজ করছে হাতেগোনা দুই চারটি সংগঠন। আবৃত্তি নিয়েই কাজ করার ইচ্ছে হলো সেই তরুণ দলের। রুচিশীল, স্বপ্নবাজ আর সৃজনশীল— এই সাংস্কৃতিক কর্মীদের হাত ধরেই পথ চলা শুরু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের। লোগোতে থাকা কলম, মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আর মুখ নির্দেশ করছে মুক্তজ্ঞান চর্চা, অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সত্য উচ্চারণের।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ও প্রাচীনতম এই আবৃত্তি সংগঠনটি সফলভাবে ২২টি ‘প্রমিত উচ্চারণ উপস্থাপনা ও আবৃত্তি কর্মশালা’ সমাপ্ত করেছে। প্রায় ৪ হাজার প্রশিক্ষণার্থী এই কর্মশালা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে গত ২০ বছরে। ২৩তম কর্মশালা ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে। নিয়মিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে কবি ও কবিতা, পড়ুয়া, বৈঠক আয়োজিত হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। ‘পলাশছোঁয়া শব্দবানের খোঁজে’ শিরোনামে প্রত্যেক বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলব্যাপী আয়োজন করছে একক আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। এ পর্যন্ত নয়টি দুই দিনব্যাপী জাতীয় মানের ‘আবৃত্তি উত্সব’ করেছে সংগঠনটি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের সদস্যরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে আবৃত্তি ও উপস্থানা করছে। সঙ্গে সঙ্গে কবিতার শহর চট্টগ্রামের সব আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সদস্যরা বিভিন্ন আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জন করে নিজেদের আবৃত্তি দক্ষতার সাক্ষর রেখে চলেছে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাষা কর্মশালায় প্রশিক্ষক দিয়ে প্রমিত বাংলা ভাষা চর্চার আন্দোলনকে এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়তই।
