এডভেঞ্চারের নেশায় নারিকেল জিঞ্জিরায়

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৫৫

দুর্গম পথ জয় করাই তারুণ্যের ধর্ম। সেখান থেকে প্রাপ্ত দুর্লভ অভিজ্ঞতাই অনুপ্রেরণা জোগায় তরুণ জীবনে। অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণের প্রসঙ্গ এলেই সচরাচর মনে উঁকি মারে দুর্গম পাহাড়, গহিন বন-জঙ্গল কিংবা অন্য কিছু। বিশেষকরে অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ মানেই এখন আর মজবুত ফুসফুস, পায়ের শক্ত গঠন আর দুর্গম অঞ্চল ভ্রমণের মতো কঠিন অভিজ্ঞতা বা প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। কারণ অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় তরুণরা এখন স্বপ্নিল ভ্রমণ গন্তব্য নারিকেল জিঞ্জিরা বা সেন্টমার্টিন দ্বীপে বছরব্যাপী যাতায়াতের সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষার উত্তাল সমুদ্রপথেও।

বর্ষায় সেন্টমার্টিন মানেই দুশ্চিন্তা

সেন্টমার্টিনে জাহাজে আসা-যাওয়ার মজাই আলাদা। তবে বর্ষায় উত্তাল সমুদ্রে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার ব্যাপারটি বাস্তবে খুব সহজ বা সুখকর নয়। এককথায়—বর্ষায় সেন্টমার্টিন যাওয়া নাকি আত্মহত্যার নামান্তর। এতদিন যা কেবলই শিহরিত গল্প তথা কল্পনায়ই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি সাহসি উদ্যোগ রোমাঞ্চপ্রিয়দের পালে শুধু হাওয়া দেওয়াই না, বর্ষাসহ যে কোনো মৌসুমে সেন্টমার্টিন যাওয়ার স্বপ্নটাকে রীতিমত বাস্তবে পরিণত করেছে। সমপ্রতি দেশের অন্যতম প্রধান জাহাজনির্মাণ প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লি. গভীর সমুদ্রে চলাচল উপযোগী জাহাজ ‘এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (www.mvkarnaphuliexpress.com)’ পরিচালনার মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতাকে জয় করে। কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাতায়াতে মানুষ এখন আর টেকনাফের দুর্গম পথে না যেয়ে নীল সমুদ্রের নির্মল হাওয়া ও নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করে বিলাসবহুল জাহাজে কক্সবাজার শহর থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে সমুদ্রগামী বিলাসবহুল এই জাহাজ সরাসরি কক্সবাজার টু সেন্টমার্টিন নিয়মিত যাতায়ত করছে। বছরের সব মৌসুমে পর্যটকসহ সব ধরনের যাত্রী নিয়ে এটি বিরতিহীনভাবে চলাচল করবে বলে উদ্বোধনকালে সংশ্লিষ্টরা জানান।  জাহাজটি সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজার রওনা হচ্ছে। জনপ্রতি ভাড়া পড়বে চেয়ারে দুই থেকে তিন হাজার টাকা এবং সাধারণ ও ভিআইপি কেবিন পাঁচ থেকে বিশ হাজার টাকা।

বিলাসবহুল এই জাহাজটি গত ৩০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নৌ-সচিব এম এ সামাদ।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ জানান, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসকে নিজস্ব ডকইয়ার্ডে একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে মেইন প্রপালেশন ইঞ্জিন দুটি। ১৭টি ভিআইপি কেবিন সমৃদ্ধ এই জাহাজ ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে।