সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ একাকী বসবাস করতে পারে না। এটি একটি তাত্ত্বিক কথা। বাস্তবতা ভিন্ন। মানুষ এখন আর সংঘবদ্ধ থাকতে চায় না। এর পেছনে নানাবিধ কারণ বিদ্যমান। পারিবারিক বন্ধনে শিথিলতা, অধিক মাত্রায় ইন্টারনেটনির্ভরতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার অনধিকার চর্চা ইত্যাদি বিষয় জড়িত। সময়ের ব্যবধানে মানুষের জীবন গতিময় হয়েছে, অল্প সময়ে অধিক কাজ করার সক্ষমতা মানুষ অর্জন করতে পেরে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাপানে প্রতি দশ জনে একজন ব্যক্তি একাকী মৃত্যুবরণ করে। এমনকি তার মৃতদেহ সত্কারের জন্য নিকট আত্নীয় পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। একাকিত্ব কত ভয়ংকর বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে! আমাদের আধুনিক সমাজে এটি বড়ো সমস্যা। এই একাকিত্ব দূর করতে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা এমন একটি যুগে বসবাস করছি, যে যুগে একই কক্ষে থেকেও পরস্পরের সঙ্গে কথা হয় খুবই কম। অথচ রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দূরের কোনো বন্ধুর খবরাখবর নিতে আমাদের জুড়ি মেলা ভার। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, সামাজিক উপাদানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও প্রতিটি পরিবারে যদি পারস্পরিক সহানুভূতি বজায় থাকে, তবেই আমাদের একাকিত্ব ঘুচবে। নতুবা এই একাকিত্ব আমাদের ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে। জীবন এখন দেখা যায়, ছোঁয়া যায় না। জীবনকে উপভোগ করতে হলে প্রয়োজন পরিবার। পরিবার নামক ইন্ড্রাস্ট্রি ধ্বংস হলে সমাজ টিকে থাকবে না। সমাজের স্বার্থে, নিজের স্বার্থে আমাদের এই ইন্ড্রাস্ট্রি রক্ষা করতে হবে।
শফিকুল ইসলাম
উত্তরা, ঢাকা
