স্কুল কলেজ থেকে সমপূর্ণ আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়। একজন ছাত্র পূর্বধারণা থেকে যতটুকুই জানুক না কেন, বেশিরভাগ বিষয় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিখতে হয়। একজন নতুন ছাত্র জানে না বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতিনীতি, নিয়মকানুন, সালাম দেওয়া, র্যাাগিং, সিনিয়র-জুনিয়রের পার্থক্য। ক্যামপাসের দূরত্ব বাসা থেকে বেশি হয় অনেক ছাত্রছাত্রীর। এদিকে বাসা থেকে প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা কত যে কষ্টের তা একজন নতুন ছাত্রই জানে। র্যাাগিং বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে হয়ে থাকে। র্যাাগিংয়ের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। যেমন পরিচয় দেওয়া, গান গাওয়া, নাচা, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি। রোদে ক্যাম্পাসে দৌড়ানো, বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন...। এছাড়া সিনিয়র আপুদের প্রপোজসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন হয়ে থাকে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে মায়ের সামনে র্যাগ দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রশ্ন করে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। চোখের নিচ থেকে রক্ত পড়ে, মুখ থেকে ফেনা বের হয় মেয়েটির। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যায় মেয়েটি। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের ফারহানা রহমান লিয়োন ও কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরানকে আচরণ শেখানোর নামে র্যাাগ দেওয়া হয়। এতে তারা প্রচণ্ড মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের চিকিত্সা দেওয়া হয়। এছাড়াও সিনিয়র জুনিয়রের হাতাহাতি ঘটনাও শোনা যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুয়েটে আবরার ফাহাদ মারা যাওয়ার ঘটনা আমরা কখনোই ভুলতে পারব না। র্যাাগিংমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলন করলেও র্যাগিং একেবারে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে দৃষ্টি দেবেন বলে আশা করি।
মাহমুদা সুলতানা
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
