২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে পানি ও স্যানিটেশন সেক্টরকে টেকসই উন্নয়নে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, পানি ও স্যানিটেশনবিষয়ক তথ্য-উপাত্তের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য থাকা, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তথ্য সেল, বিভিন্ন এনজিও নেটওয়ার্কের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাসহ পৃথক ওয়াশ বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডের ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সিভিল সোসাইটি ও মাল্টি স্টেকহোল্ডার সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এই সভার আয়োজন করে স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল (এসডব্লিউএ)। সভায় ‘সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন প্রস্তাবিত অঙ্গীকারসমূহ আলোচনা ও পরবর্তী করণীয়’ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ মন্ত্রণালয়ের পানি সরবরাহ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এই সেক্টরে জিও এনজিওর সমন্বয় দরকার, যা আমাদের আছে। আঞ্চলিক দিকেও আমাদের নজর আছে। সবচেয়ে বড়ো দিক যেটা তা হচ্ছে এই সেক্টরে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নিজের কমিটমেন্ট আছে। পৃথিবীর অনেক দেশে ওয়াটার স্যানিটেশনের দিকে সরকার খুববেশি গুরুত্ব দেয় না। আমাদের অন্যান্য সেক্টরের তুলনায় এটা খুব সুসংগঠিত সেক্টর। যার ফলে ওয়ান বিলিয়ন ডলার প্রজেক্ট, আর্সেনিক নিয়ে প্রজেক্ট, পাহাড় নিয়ে আলাদা প্রজেষ্ট আছে। তবে এটার টেকসই উন্নয়ন একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। আমাদের পানির অনেক সোর্স বা উত্স আছে, যা টেকসই হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা ঢাকা শহরে পাঁচটি ওয়াটার টিটমেন্ট প্লান্ট করব। এই ওয়াটার ও স্যানিটেশন সেক্টরে ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি ) ইউএস ডলার বিনিয়োগ আছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান বলেন, প্রতি বাড়ির আঙ্গীনায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ৬ লাখ ওয়াটার সোর্স আছে। ২০১৯ সালে ৫৪টি ওয়াটার ল্যাবরেটরি করে দিয়েছি। পূর্বের ছিল আরো ১২টি। তিন পাবর্ত্য অঞ্চলের জন্য আলাদা প্রজেক্ট আছে। সরকার ছোটো প্রজেক্টগুলো পাশ করে দিচ্ছে। বস্তির জন্য শেয়ার ল্যাট্রিন কীভাবে নিরাপদ করা যায় তা ভাবতে হবে। স্কুলগুলোতে প্রতিবন্ধীদের জন্য টয়লেট ও র্যাম্প নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সভায় ওয়াশ অ্যালায়েন্স ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অলক কুমার মজুমদার বলেন, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বস্তিবাসী, মহানগর, পাহাড় ও পতিতালয়ের সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেই বোঝানো হয়েছে। কারণ এসডিজির লক্ষ্যই হচ্ছে কাউকে পেছনে রেখে নয়, পিছিয়ে পড়া সবাইকে নিয়েই এসডিজির লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের ৯ থেকে ১০ ভাগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন, তাদের জন্যও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এসডব্লিউএর এশিয়া আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সিদ্ধার্থ দাস, এসডব্লিউএ দক্ষিণ এশিয়া সিএসও প্রতিনিধি ও ডরপর গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন এসডব্লিউএর বাংলাদেশের কান্ট্রি ফোকাল মো. ইয়াকুব হোসেন।
