বাংলাদেশ টেস্ট দল এখন সুখী পরিবার। রান উত্সবের দেখা মিলেছে ব্যাটিং লাইনে। মুশফিকুর রহিম তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছেন। অধিনায়ক মুমিনুল হকও সেঞ্চুরি করেছেন। দেশের মাটিতে বোলিংয়ে পরীক্ষিত অস্ত্র স্পিনারদের পাশাপাশি এবার পেস বোলাররাও উইকেট শিকারের মিছিলে নাম লিখিয়েছেন।
অথচ কয়েক দিন আগেও বিষম চাপে ছিল বাংলাদেশের টেস্ট দল। ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় পথচলার ২০ বছরে এসে হজম করতে হয়েছে টানা ছয় হার। যার পাঁচটিই আবার ইনিংস ব্যবধানে। বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দল মিরপুর টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাড়ি দিল চাপের সমুদ্র। আশার কথা বিপুল বিক্রমে জয়ের বন্দরে তরি ভেড়াতে পেরেছে মুমিনুল হকের দল।
গতকাল সিরিজের একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানে পরাজিত করে ১৪ তম জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ইনিংস ব্যবধানে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরে মিরপুরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইনিংস ও ১৮৪ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ।
মুমিনুল হকের অধীনে বাংলাদেশের প্রথম জয়। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞায় হুট করে পাওয়া টেস্ট নেতৃত্বে মুমিনুলের শুরুটা ছিল ভারতের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরে। এবার জয়ের খাতাও খুললেন তিনি ইনিংস ব্যবধানে জিতে।
প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে করেছিল ২৬৫ রান। মুশফিকের ডাবল ও মুমিনুলের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৫৬০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ২৯৫ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৯ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক ম্যাচ সেরা হন।
গতকাল দুপুর অব্দি ঢাকার আকাশে সূর্যিমামার দেখা মেলেনি। তবে দুপুর গড়ানোর আগেই মিরপুরের আকাশে উঁকি দেয় বাংলাদেশের জয়ের সূর্য। জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের ঘূর্ণিতে গতকাল দুই সেশনের মাঝেই জিম্বাবুয়েকে অলআউট করে দেয় স্বাগতিকরা। শেষ ৮ উইকেটে ১৮০ রান যোগ করতে সমর্থ হয় জিম্বাবুয়ে।
দিনের পঞ্চম ওভারে তাইজুলের বলে স্লিপে মিঠুনের হাতে ক্যাচ দেন কেভিন কাসুজা (১০)। অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর (১৭) নাঈমের শিকার হলে ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারায় দলটি। পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন ও সিকান্দার রাজা উইকেট পতনের স্রোত থামানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের ৬০ রানের জুটি ভাঙে আরভিন রানআউট হলে। মুমিনুলের থ্রোয়ে ফিরেন ৪৩ রান করা জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।
লাঞ্চের পর মুশফিকের দুর্দান্ত ক্যাচের বলি হন সিকান্দার রাজা। মিড উইকেটে শূন্যে লাফিয়ে উঠে রাজার পুল শটটা তালুবন্দি করেন মুশফিক। রাজা ৩৭ রান করেন। অনেকটা একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে চাকাভাকে (১৮) ফেরত পাঠান তামিম। এনলোভুকে (৪) এলবির ফাঁদে ফেলেন নাঈম। মারুমার প্রতিরোধ থামিয়ে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট তুলে নেন এই অফস্পিনার। মারুমা ৪১ রান করেন।
সুমাকে (৩) চতুর্থ শিকার বানিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের লেজটা গুটিয়ে দেন তাইজুল। বাংলাদেশের নাঈম ৮২ রানে ৫টি, তাইজুল ৭৮ রানে ৪টি উইকেট নেন।
