বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো পারস্পরিক সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলের জ্বালানি ঘাটতি দূর করতে পারে। ঋতুভেদে এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে-কমে। এ পার্থক্য কাজে লাগিয়ে এক দেশের উদ্বৃত্ত বিদ্যুত্ আরেক দেশের সংকটের সময় সহজেই বিক্রি করতে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বিমসটেক সেক্রেটারিয়েটে ‘বিমসটেক অঞ্চলে জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। এ সময় বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যুত্ গ্রিডের আঞ্চলিক সংযোগ তৈরির কর্মপন্থা ঠিক করতে আলোচনা করেন বিমসটেক দেশগুলোর জ্বালানি ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিমসটেক ও সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ইনেশিয়েটিভ ফর এনার্জি ইনটিগ্রেশন (এসএআরআই/ইএ) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। বিমসটেকের সাত সদস্য দেশ এবং অন্যান্য দেশের আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞরা দুই দিনের সম্মেলনে গতকাল দুটি কর্ম-অধিবেশনে যোগ দেন। আজ আরো দুটি কর্ম-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযুক্ত করার টেকসই ও নিরাপদ উপায় খুঁজছি আমরা। ২-৩ হাজার কিলোমিটারের এই এলাকায় যদি একটি কানেকটিভিটি হয়, তাহলে সবগুলো দেশের সক্ষমতা বাড়বে। সক্ষমতা বাড়ার অর্থ হলো গ্রাহকের জন্য দাম কম হবে। চাহিদা অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত হবে। আঞ্চলিক পর্যায়ে বিদ্যুত্ সঞ্চালনের উপায় ঠিক করার পাশাপাশি উত্পাদনে বিনিয়োগের পথ উন্মোচনের আহ্বান জানান তিনি।
বিমসটেক মহাসচিব এম শহীদুল ইসলাম বলেন, সুবিধামতো কারও যদি শীতকালে আমদানি করা বেশি দরকার হয়, সে আমদানি করবে। যার গরমকালে রপ্তানি করার সুযোগ থাকে, সে দেশ তা করবে। এটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সে কর্মপন্থা খুঁজছি আমরা। বিমসটেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন স্থাপনে ২০১৮ সালে সাত সদস্য দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। তাতে দেশগুলোর শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়। এর পরবর্তী ধাপ হলো, কারিগরি পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করে কীভাবে এই চুক্তির ধারাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
