ইন্দোনেশিয়ায় আরো সুনামির আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল সোমবার লামপাংয়ের মাউন্ট ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির কাছের বাসিন্দাদের উপকূলীয় এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবারের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার। এখনো নিখোঁজ ১২৮ জন। খবর বিবিসি ও এনডিটিভি’র
জাভা দ্বীপ ও সুমাত্রার মধ্যকার সুন্দা প্রণালীতে বিমান থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, সেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং ছাই উড়ছে। এরপরই দেশটির জাতীয় দুর্যোগ বিপর্যয় মোকাবেলা সংস্থা কাছের বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা জারি করে। সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো নুগরোহো সংবাদ সম্মেলনে জানান, নতুন করে সুনামি দেখা দিতে পারে। কারণ সমুদ্রেগর্ভে আরো অগ্ন্যুত্পাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে সুনামি আছড়ে পড়ে দক্ষিণ সুমাত্রায়। সুতোপো নুগরোহো বলেন, সুনামি ভূমিকম্পের কারণে হয়নি। সম্ভবত লামপাংয়ের মাউন্ট ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের প্রভাবেই সুনামি আঘাত হেনেছে। গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চলে। তবে রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ ও সুমাত্রার মধ্যকার সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত একটি আগ্নেয় দ্বীপ ক্রাকাতোয়া। এখানকার অগ্নেয়গিরি থেকে এর আগেও বহুবার ভয়াবহ অগ্ন্যুত্পাতের ঘটনা ঘটেছে। সুনামি এবং ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। মাঝে মধ্যেই কেঁপে উঠে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি। ২০০৪ সালে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প এবং তার জেরে সুনামি আছড়ে পড়ে ১৪টি দেশে। সব দেশ মিলিয়ে দুই লাখ ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই নিহতের সংখ্যা ছিল এক লাখ ২০ হাজার।
