সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
চার বন্ধুর এক বন্ধুকে পত্রিকার একটি ভুয়া বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। পেশায় শিক্ষক ওই বন্ধু বিজ্ঞাপন দেখে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে কানাডায় প্রবাসী এক মহিলাকে বিয়ে করার জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি করতে চায়। সম্পত্তি কিনতে চায় বাকি তিন বন্ধু। একসময় তাদের সবার মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তারা নানা পেশায় যুক্ত থেকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এক জ্যোত্স্না রাতে নদীর বালুচরে তারা বেড়াতে গেলে তাদের মধ্যে পরিবর্তন ঘটতে থাকে। তাদের কারো নাক দিয়ে কেঁচো বের হতে থাকে, কারো চোখ দিয়ে মাছ পড়তে থাকে, কেউ বা কুকুরে রূপান্তরিত হতে থাকে। কারো হাত মুখ লম্বা হতে থাকে। এ অবস্থায় এক নারীর সঙ্গে দেখা হয় তাদের। সেই রহস্যময় নারী তাদের উদ্দেশে বলেন, তাদের অপরাধের গুপ্ত ইচ্ছে আর ভয়ানক মানসিকতাগুলো এতদিন সুপ্ত ছিল। সেই সুপ্ত অনুভূতিগুলো কেঁচো, মাছ, তেলাপোকা, সাপ হয়ে বেরিয়ে আসছে। এজন্য তাদের চেহারাতেও পরিবর্তন ঘটছে। এরপর অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকে। এমন কাহিনি নিয়ে ৬৪ জেলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় নাট্যোত্সবে পঞ্চগড়ে দুই দিনের উত্সবের উদ্বোধনী দিনে পঞ্চগড়ের নাট্যদল ‘ভূমিজ’ মঞ্চায়ন করে ‘মায়াচর’।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের আয়োজনে দেশের ৬৪ জেলায় এই জাতীয় নাট্যোত্সব উদ্যাপিত হচ্ছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উত্সব উদ্বোধন করেন। এরই অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয় দুই দিনব্যাপী জাতীয় নাট্যোত্সব। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্সবের উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবার নীলফামারী জেলার ডোমার শিল্প ও সাহিত্য একাডেমি মঞ্চস্থ করবে হুমায়ূন আহমেদের নাটক ‘১৯৭১’। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন মিজানুর রহমান সোহাগ ও বাসুদেব রায়।
পঞ্চগড় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে মঞ্চস্থ হওয়া ‘মায়াচর’ নাটকটি রচনা ও নির্মাণ করেছেন সরকার হায়দার। অভিনয় করছেন নাসরিন আক্তার, রফিকুল ইসলাম, হাজ্জাজ তানিন, মোস্তাফিজুর রহমান এবং সরকার হায়দার।
দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত নাট্য উত্সবের কারণে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন কানায় কানায় ভরে যায়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুল-কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নাটক উপভোগ করেন।
নাটকটির নির্মাতা সরকার হায়দার জানান, এই সময়ে প্রায় প্রত্যেক মানুষই ইচ্ছে বা অনিচ্ছেতে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। খুব হালকা বিষয়-আশয় যেমন বদনাম, হিংসা আর ঈর্ষা দিয়ে মানুষ অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করে ফেলছে। এগুলোও একধরনের অপরাধ। যদিও ভেতরের সেই পশুবৃত্তিগুলো আমরা অভিনয় দিয়ে আবৃত্ত করে রাখি। মায়াচরের মূল ভাবনা মানুষের পশুবৃত্তিক আচরণ থেকেই নেওয়া।
