উদ্বোধনের এক বছর পরও চালু হয়নি

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫৮

ঝিনাইদহে ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার দক্ষিণ কাস্টসাগরা গ্রামে ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের এক বছরেও চালু হয়নি। হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে প্রত্যন্ত এলাকার প্রসূতি মায়েরা যেমন নিরাপদ প্রসব সেবা পাবেন তেমনি সব বয়সি নারী ও শিশুদের চিকিত্সাসেবার পথ সুগম হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। স্ব্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছে সুরাট, নলডাঙ্গা ও কালীচরণপুর ইউনিয়নের মা ও শিশুরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই হাসপাতালটিতে সেবা নিতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যায়। এলাকাবাসীর দাবি হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা হোক।

স্থায়ী লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে ডেপুটেশনে কয়েক জনকে এনে স্বল্প পরিসরে হাসপাতালটিতে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রটি নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ বেডের হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। এক বছর ৩ মাস পার হতে চললেও কোনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতালটি রোগীর বিছানাসহ অন্যান্য দরকারি আসবাবপত্র দিয়ে সজ্জিত। তাছাড়া প্রয়োজনীয় চিকিত্সা যন্ত্রপাতিসহ রয়েছে ওটি রুম, ডাক্তার নার্সদের রুম, ব্রেস্ট ফিডিং রুম ও  রোগীদের বসার ব্যবস্থা। দেওয়া হয়েছে জেনারেটর। চালু না হওয়ায় এগুলো অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। পার্শবর্তী ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হতে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাসহ কয়েক স্টাফকে ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে। তারা দেখভাল করেন। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস থেকে কিছু ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ববিতা বেগম বলেন, এত সুন্দর একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনও হয়েছে। কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো হাসপাতালটি চালু হয়নি। চালু হলে গ্রামের প্রসূতি মায়েরা নিরাপদ ডেলিভারির সুয়োগ পেত। গরিব মানুষের উপকার হতো। একই গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহাজাহান বলেন, এত সুন্দর হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় দরিদ্র মানুষ উপকার পাচ্ছে না।

সুরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, জেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এক বছর ৩ মাস আগে উদ্বোধন করা হয়েছে। ডাক্তার নার্স নিয়োগ না হওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না। তিনি দ্রুত চালুর দাবি করেন।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. জাহিদ আহমেদ বলেন, দুই জন ডাক্তার, নার্সসহ ১৪ জন লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। স্থানীয়ভাবে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে এক জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাসহ কয়েকজন কর্মচারী ডেপুটেশনে নিয়োগ করা হয়েছে। তারা দেখভাল করছেন। লোকবল নিয়োগ হলেই চালু করা হবে।

উল্লেখ্য, শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল গ্রামে এ ধরনের আরেকটি হাসপাতাল উদ্বোধনের দেড় বছর পরও লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় চালু হয়নি বলে জানা গেছে।