পুঁজিবাজার উন্নয়নে আর্থিক রিপোর্টে স্বচ্ছতা জরুরি

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২৩

সেমিনারে বিএসইসির চেয়ারম্যান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

শেয়ারবাজার উন্নয়নে কোম্পানির আর্থিক রিপোর্টে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। এতে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী উভয়ে লাভবান হন। আর আর্থিক বিবরণীতে থাকলে কার্যকর পরিপক্ব পুঁজিবাজার গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। শেয়ারবাজারবিষয়ক এক সেমিনারে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন এসব কথা বলেন। আগারগাঁওয়ে বিএসইসি অডিটোরিয়ামে এ সেমিনারের বিষয় ছিল ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টস অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডিটেকশন অব ফ্রড’। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ড. হেলাল উদ্দিন নিজামী, ড. স্বপন কুমার বালা, খোন্দকার কামালুজ্জামান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসির পরিচালক  মো. রেজাউল করিম।

ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, নতুন করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড অনুযায়ী কোম্পানির মধ্যে অডিট কমিটির প্রধান হবেন একজন স্বাধীন পরিচালক। এছাড়া চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং অডিটরসহ কার কী দায়িত্ব—সবকিছু নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকাশিত তথ্যের (ডিসক্লোজার) ভিত্তিতেই কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিয়ে থাকি। এরপরও সব দোষ কমিশনকে দেওয়া হয়। এমনকি সেকেন্ডারি মার্কেটে সূচক কমলেও দোষ হয় কমিশনের। অথচ আমাদের কোনো বিনিয়োগ নেই।’ বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘কমিশনের কাজ হলো কারসাজি হলে চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা, চাহিদা সরবরাহ ঠিক রাখা এবং কেউ গুজব ছড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থায় নেওয়া। তারপর মার্কেট ওঠানামা করার জন্য আমাদের সমস্ত দোষ দেওয়া হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমরা এখানে অসহাত্ব বোধ করি।’

ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাজের পরিধি বাংলাদেশ ব্যাংকের চেয়েও অনেক বড়ো। তারা শুধু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করে। তাদের সেখানে ৭ থেকে ৮ হাজার লোকবল রয়েছে। অথচ আমাদের মাত্র ৮৪ জন অফিসার। আর পিয়ন ও দারোয়ান নিয়ে আমাদের জনবল ১৬০ জন।’ তার মতে, তথ্যে গলদ থাকলে কোনো দিন বিপক্ষ মার্কেট গড়ে উঠবে না।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ একাডেমি অব সিকিউরিটি মার্কেটের (বিএএসএম) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ, মো. সাইফুর রহমান, বিএসইসির পরিচালক কামরুল আনাম খান, এফআরসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ, সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভ্রকান্তি চৌধুরী, শেয়ারবাজারের রিপোর্টারদের সংগঠন সিএমজেএফের প্রেসিডেন্ট হাসান ইমাম রুবেল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী প্যানেল আলোচক ছিলেন।