প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় নবম শ্রেণি থেকেই বিষয়ভিত্তিক বিভাজন (বিজ্ঞান-কলা-বাণিজ্য) তুলে দেওয়ার বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘মাধ্যমিক পর্যন্ত এই বিভাজন না থাকাই ভালো। এসএসসির পরে গিয়ে যদি বিভক্ত হয়, সেটাই ভালো।’
গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ তুলে দেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে এজন্য শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমাদের (দেশে) ক্লাশ নাইন থেকে কে কোন সাবজেক্টে যাবে সেটা ভাগ করে দেওয়া হয়। আমার মনে হয়, এই ভাগটা থাকার কোনো দরকারই নেই। কারণ এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত সব সাবজেক্টই তারা পড়তে পারে। বিশ্বের অনেক দেশেই এমনটা নেই, কারণ বিজ্ঞান না পড়ার ফলে অনেক বিষয়েই শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। আর আমাদের দেশে ১৯৬৩ সালে আইয়ুব খান (পাকিস্তান আমলে) সরকারের সময় এটা করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জনসংখ্যাকে আমরা যদি কারিগরি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে সেইভাবে দক্ষ করে গড়তে পারি তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা তো কোনোদিন হবেই না বরং আমরা অন্য দেশকে সাহায্য করতে পারব। তার সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সেলক্ষ্যে একটি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেক্ষেত্রে আমরা কাউকেই অবহেলা করতে চাই না। যে কারণে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে অনার্স কোর্স চালু এবং প্রযুক্তি শিক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসাকেও আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি এবং দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দিয়েছি। কারণ তাদেরকেও আমরা সমন্বিত শিক্ষার মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী ইউজিসিকে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশ দেন।
এক ভবনে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় কি শিক্ষা দেয় তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান ঠিক রাখতে আইন করা হচ্ছে। যে যার মতো একটা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে। এক বিল্ডিংয়ে তিনটা বিশ্ববিদ্যালয় কি শিক্ষা দেয়, ঠিক আমি জানি না? আমার কাছে অবাক লাগত শুনে! যা হোক, এখন একটা ডিসিপ্লিনে আনার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে ইউজিসির জনবল বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সোনার ছেলেমেয়ে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সোনার বাংলা গড়তে সোনার ছেলে দরকারের কথা বলেছিলেন। গবেষণার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষণা ছাড়া কখনো উত্কর্ষতা লাভ করা যায় না।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহিদুল্লাহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মোবারক হোসেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শারমিন সুলতানা অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিববৃন্দ, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যানগণ, বর্তমান এবং সাবেক ইউজিসি সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষবিদগণসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
