ইসলাম ও সংখ্যালঘুদের অধিকার

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:৫৫

  মো. সাব্বির আহমেদ

 

ইসলাম শান্তি, উদারতা, মানবতা, পরমতসহিষ্ণুতা ও অসাম্প্রদায়িকতার ধর্ম। ইসলাম শুধু মুসলমান নাগরিকদের জানমাল ও সম্মানের অধিকার প্রদান করেনি, বরং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী তথা খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ প্রভৃতি নাগরিকের যথাযথ অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রদান করেছে। ইসলাম সংখ্যালঘুদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, জীবনের নিরাপত্তা, ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি অধিকার স্বীকার করে। ইসলামি রাষ্ট্রে একজন অমুসলিম জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, কর্মসংস্থানের অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে; যা ইসলাম প্রদান করেছে। অমুসলিম সংখ্যালঘুদের ধর্ম-কর্ম পালনে বাধাদান বা জোর করে ধর্মান্তরিত করা বা ধর্মের ব্যাপারে যে কোনো প্রকার বল প্রয়োগ ও জবরদস্তি ইসলামে নিষিদ্ধ। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে :‘ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি বা বাড়াবাড়ি নেই।’ (সুরা আল-বাকারা :২৫৬) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে লড়াই করেনি এবং তোমাদের নিজ নিজ বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের সঙ্গে সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ নিষেধ করেননি। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন। (সুরা আল মুমতাহিনা :৮) এছাড়া ইসলাম অমুসলিমদের ধর্মীয় উপাস্যদের কটূক্তি, নিন্দা ও গালমন্দকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য দেব-দেবীর উপাসনা যারা করে, তাদের উপাস্যদের তোমরা গালি দিয়ো না।’ (সুরা আনআম :১০৮) সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অমানবিক আচরণ ইসলাম সহ্য করে না। মহানবি (স) বলেন, ‘সাবধান! যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিক বা সংখ্যালঘুকে অত্যাচার করে বা তার অধিকার খর্ব করে কিংবা তার প্রতি তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেয় বা জোরপূর্বক তার কোনো সম্পদ আত্মসাত্ করে, আমি তার বিরুদ্ধে কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে মামলা দায়ের করব।’ (আবু দাউদ) অন্য হাদিসে মহানবি (স) বলেন, ‘অমুসলিমদের জীবন আমাদের জীবনের এবং তাদের সম্পদ আমাদের সম্পদের মতোই।’ (আবু দাউদ)

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) অন্য ধর্মাবলম্বী ও সম্প্রদায়ের  প্রতি অত্যন্ত সহনশীল ছিলেন, যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘মদিনা সনদ’। মদিনা সনদের মাধ্যমে মহানবি (স) ধর্মীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও মুসলিমদের নিয়ে একটি রাষ্ট্র ও জাতি গঠন করেন। সেখানে মুসলিম-অমুসলিমনির্বিশেষে সব মানুষ পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করবে এবং একে অপরের ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না—এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়, যা ছিল হযরত মুহাম্মদ (স)-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, সমাজ সংস্কার এবং সামাজিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

ইসলামের দৃষ্টিতে সব মানুষ সমান এবং পৃথিবীর ‘সব মানুষ একই সম্প্রদায়ভুক্ত’; যেখানে ধনী-গরিব, শেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ, মুসলিম-অমুসলিম ভেদাভেদ নেই; যেখানে মানবতাই প্রধান। ইসলাম সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সর্বজনীন ভ্রাতৃত্তে বিশ্বাসী। আর সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিই পারে দেশ, সর্বোপরি পৃথিবীকে শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে।

lলেখক :শিক্ষার্থী, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

০