চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

উত্সবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন প্রার্থীরা

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২০

উত্সবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিভিন্ন দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। শেষ দিনে ৯ মেয়র প্রার্থী, ৫৮ সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ২২০ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সারাদিন উত্সবমুখর পরিবেশে নিয়মশৃঙ্খলা মেনেই প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী পহেলা মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হবে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে। তিনি আরো জানান, ১১ জন মেয়র পদে, ৭৯ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ৪৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।

এদিকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সকাল থেকেই লাভ লেইনস্থ আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের আশপাশের এলাকা প্রার্থী ও সমর্থকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে। মনোনয়নপত্র জমা                 দেওয়ার সময় অনধিক পাঁচ জন আসার কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রার্থী এই নিয়ম পালন করতে পারেননি। সকালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তার মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রেজাউল করিমের সঙ্গে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালামসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। জনগণের ওপর আমার আস্থা আছে। তাদের হূদয় জয় করতে পেরেছি। ইনশাল্লাহ বিজয়ী হব।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন দুপুর ২টার পর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সহদপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী। এ সময় গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চার দফা দাবি তুলে ধরেন ডা. শাহাদাত। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রত্যেক বুথে সেনা সদস্য মোতায়েন, ভোটগ্রহণের তারিখ দুই দিন পেছানো, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে ভোটারদের ঢোকানো এবং রঙিন পোস্টার প্রকাশের অনুমতি। শাহাদাত হোসেন বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে মানুষ ভোট সেন্টারবিমুখ হয়ে গেছে। তাদের ভোটমুখী করার দায়িত্ব সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং ইসির। ব্যালট প্যানেলের সুরক্ষা আপনাদের দিতে হবে। সেখানে যাতে কোনো ধরনের দলীয় সন্ত্রাসীরা বসে ভোট জালিয়াতি করতে না পারে। সেজন্য আমরা প্রতিটা সেন্টারের বুথের মধ্যে সেনাবাহিনীর একজন অফিসার নিয়োগ করার কথা বলেছি। টানা ছুটির কারণে ২৯ মার্চ ভোটাররা কেন্দ্রে আসবে না বলে আশঙ্কা করছেন শাহাদাত। তিনি বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে হলে ৩১ মার্চ ভোটের দিন ধার্য করতে হবে।