মৌসুমি প্রকাশকদের বইমেলা থেকে বাদ দেওয়া হোক

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২৯

এবারের বইমেলা খুব সুন্দরভাবে পেরিয়ে গেল। এবারের মেলার পরিসর বৃদ্ধি করায় পাঠক ও প্রকাশক সবার জন্যই তা সুখকর হয়েছে। এমন সুন্দর অনুকূল পরিবেশে মেলা খুব পেয়েছি আমরা। তাছাড়া এত বিশাল পরিসরে শান্ত স্নিগ্ধ বইমেলায় এসে পাঠকরাও সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন বলে মনে হয়েছে। বসবার সুন্দর ব্যবস্থা, স্টলের সংখ্যা বৃদ্ধি, মেলা মাঠে নানা আয়োজন সবকিছুই মেলায় আসা দর্শনার্থীদের আনন্দ দিয়েছে। সব মিলিয়ে মেলা খুব ভালো হয়েছে। তাছাড়া মেলার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও যথেষ্ট তত্পর ছিল।      তবে কিছু ত্রুটি থেকেই যায়। যেমন মেলায় আলোর স্বল্পতা ছিল। বিশেষ করে, খাবারের স্টল ও মোড়ক উন্মোচন চত্বরে। এছাড়া খাবারের স্টল যেখানে রাখা হয়েছে সেখানকার পরিবেশ বইমেলার সামগ্রিক পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই বেমানান ছিল। হইহট্টগোল এমন লেগে থাকে যে, বইমেলার পরিবেশটাকে নষ্ট করে। বাজারের খাবারের দোকান না এনে ভালো মানের খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বইমেলায় স্থান দেওয়া হোক। এর পাশাপাশি মেয়েদের টয়লেট ব্যবস্থা খুব নিম্নমানের ও অপ্রতুল। এর সংখ্যা বৃদ্ধি, মান বৃদ্ধি করাও জরুরি। বাংলা একাডেমি আগামী বছরগুলোতে এসব ত্রুটি দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করি।

আমরা আশা করি, আগামী বছরে ভুল বই, পাইরেটেড বই নিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া, মানহীন শিশুতোষ বই নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করা প্রকাশকদের ব্যাপারে বাংলা একাডেমি কঠোর হবে। বইমেলায় প্রফেশনাল প্রকাশকরা ছাড়া ‘মৌসুমি’ প্রকাশকদের অংশগ্রহণ বন্ধ করতে হবে। এই মৌসুমি প্রকাশকরা এসে প্রকৃত প্রকাশকদের ক্ষতি করছে। তাছাড়া এই সব মৌসুমি প্রকাশকদের ভুলে ভরা বইমেলাকে কলুষিত করছে। মৌসুমি প্রকাশকদের কারণে যারা সিরিয়াস প্রকাশক তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ লটারি করে স্টল বরাদ্দের সময় দুই প্রকাশককে সমান নজরে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে মৌসুমি প্রকাশকরা নেট বই নিয়ে এসে ব্যবসা করছে। আর শ্রম দিয়ে বই প্রকাশ করা প্রকাশকরা ভিড়ের কারণে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই সমস্যা বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে বারবার। সে কারণে বইমেলা পরিচালনা কমিটিতে প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে।

তাম্রলিপি এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ গ্রন্থমালা সিরিজ এ বঙ্গবন্ধুর জীবনকে ৪৬টি পর্বে ভাগ করে ৪৬টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। বিগত চার বছর ধরে এ কাজটি করা হয়েছে। এর উপদেষ্টা জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সম্পাদনা করেছেন সেলিনা হোসেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে। এছাড়াও এবারের তাম্রলিপি ৯০টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে মুহম্মদ জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন, আয়মান সাদিক, অন্তিক মাহমুদসহ জনপ্রিয় লেখকরা রয়েছেন।