কেরানীগঞ্জে মুক্তিপণ দিয়ে মিলল মাদ্রাসাছাত্রের গলাকাটা লাশ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩০

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অপহরণের চার দিন পর মোকসেদুল মমিন (১৭) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের সহপাঠী মো. ফাহিমকে (১৯) আটকের পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন রতনের খামার এলাকায় একটি নির্জন মাঠে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় মমিনের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মোকসেদুল মমিন একই থানাধীন চুনকুটিয়া এলাকায় চানমিয়া ওহাবুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র। ফাহিমও একই মাদ্রাসার ছাত্র। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে মোকসেদুল মমিন বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। এর পরদিন মোকসেদুলের মোবাইলের মাধ্যমে ফোন দিয়ে তার পিতাকে অপহরণকারীরা জানায় যে তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে এবং জীবিত অবস্থায় পেতে হলে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মোকসেদুল মমিনের পিতা সাহাবুদ্দিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করেন। পরে তিনি দুই দফায় মোট ১০ হাজার টাকা অপহরণকারীদের বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করেন। মমিনের পিতা বিষয়টি র্যাবকে জানালে তারা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণকারী ও মোকসেদুল মমিনের সহপাঠী ফাহিমকে (১৭) পুরান ঢাকার নবাবপুর রোড থেকে গ্রেফতার করে। আসামি ফাহিমের স্বীকারোক্তি মোতাবেক মোকসেদুল মমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা একটি        রক্তাক্ত চাকু উদ্ধার করা হয়। আসামি মো. ফাহিমের বরাত দিয়ে র্যাব-১০ কেরানীগঞ্জ ক্যাম্পের ডিএডি বদিউল আলম বলেন, ফাহিম ও মোকসেদুল মমিন সহপাঠী। মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করার উদ্দেশ্যে ফাহিম তার বন্ধু মো. আরিফ (২৩) ও রাজুকে নিয়ে সুকৌশলে মমিনকে অপহরণ করে ঐ এলাকায় নিয়ে যায়। পরে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ দিয়ে প্রথমে মমিনকে অচেতন করে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। নিহত মোকসেদুল মমিনের মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘অপহরণকারীরা ফোন করে টাকা চাইলে আমরা বলেছি, আমার ছেলেকে কিছু করবে না, আমরা টাকা পাঠাব। পরে ১০ হাজার টাকাও পাঠিয়েছি, কিন্তু তারপরও ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল। আমি এ হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই।’