দণ্ডিত খালেদা জিয়া আদালত থেকে সব সুবিধা পাবেন না

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন পুনরায় খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিত্সা এবং মানবিক কারণ দেখিয়ে এই জামিন চাওয়া হয়েছিল। ঐ আবেদনের প্রেক্ষিতে তলব করে আনা হয় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) মেডিক্যাল বোর্ডের সর্বশেষ রিপোর্ট। এ নিয়ে দীর্ঘ শুনানি চলে। শুনানি নিয়ে জামিন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে নতুন কোনো কারণ না পাওয়ায় তা খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।           এ সংক্রান্ত আদেশে হাইকোর্ট বলে, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে, খালেদা জিয়া একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। একজন সাধারণ মানুষ আদালত থেকে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে উনি সেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। উনি জেল কোড বা কারাবিধি অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। কারাবিধি ও নিয়ম-নীতি অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে তার চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন উনি সম্মতি দিলে মেডিক্যাল বোর্ড তার অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট শুরু করতে পারে। এক্ষেত্রে বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে নতুন কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সককে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।’

হাইকোর্টের আদেশে আরো বলা হয়, ‘আদালতের আদেশে বিএসএমএমইউর ভিসি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ওপর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার ওপর প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। ঐ রিপোর্টে উনার রোগের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ আছে। কীভাবে তার চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং হবে তার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট দিতে গেলে রোগীর সম্মতির প্রয়োজন। কিন্তু উনি সম্মতি না দেওয়ায় চিকিত্সা শুরু করতে পারছে না বোর্ড।’ আদালত বলে, দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতাল বিএসএমএমইউতে জটিল সব রোগের চিকিত্সা দেওয়া হয়ে থাকে। আদালতে পাঠানো মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টে কোথাও উল্লেখ নেই যে বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিত্সা দিতে অক্ষম। এ কথাও উল্লেখ নেই যে হাসপাতালে এই ধরনের চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই এই হাসপাতালেই তার চিকিত্সা সম্ভব।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন চান তিনি। গত বছরের ৩১ জুলাই হাইকোর্টের এই ডিভিশন বেঞ্চ তার জামিনের আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেয়। ঐ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে জামিন চান তিনি। গত ১২ ডিসেম্বর ঐ জামিন আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। আদালত বলে, খালেদা জিয়ার সম্মতি পেলে দ্রুত উন্নত চিকিত্সা প্রদান করবে মেডিক্যাল বোর্ড। এ অবস্থায় পুনরায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে গত সপ্তাহে আবারও আবেদন করা হয়।

আবেদনের শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্টে ঝুঁকি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে বলেই তার সম্মতি চাওয়া হচ্ছে। এ কারণে খালেদা জিয়া সম্মতি দিতে চাননি। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, উনি তো চিকিত্সার জন্য সাময়িক সময়ের জন্য লন্ডনে যাবেন। ১/১১ সময় তাকে দেশের বাইরে পাঠাতে চেয়েছিল, কিন্তু উনি যাননি। কারণ আগে পুত্রবধূর সঙ্গে আলোচনা করে উনি চিকিত্সা নিতেন। কিন্তু এখন তো সেই সুযোগও নেই। বোর্ড যে অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট দেওয়ার সুপারিশ করেছে এতে তার জীবনহানির শঙ্কা রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, খালেদা জিয়াকে যে সব ওষুধ প্রয়োগ করা হবে সেগুলো তো বাজারে রয়েছে। ওষুধগুলো নেওয়ার পর মানুষ মারা গেলে এগুলো কি বাজারে আসত? যদি উনি সম্মতি না দেন তাহলে চিকিত্সা কীভাবে শুরু করবে বোর্ড। দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগ অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্টের বিষয়ে বোর্ডকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। সেখানে হাইকোর্টের ভিন্নতর কোনো আদেশ দেওয়ার সুযোগ নেই। শুনানি শেষে হাইকোর্ট জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেয়।