জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মিরপুর টেস্টে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলন শেষে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। পাশাপাশি হেঁটে চলা কয়েকজন সাংবাদিকের প্রতি মুমিনুলের অনুরোধ ছিল এমন, ‘ভাই, আমাদের পেসাররা কিন্তু ভালোই বোলিং করছে এই টেস্টে। ওদেরকে সাপোর্ট কইরেন। ওদেরকে উত্সাহ দিয়েন। ওরা আরো ভালো করবে সামনে। ওরা ভালো না করলে জেতা কঠিন।’
টেস্ট দলের জন্য পেসার গড়ে তোলার কাজে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট বেশ যত্নবান। গত এক বছর ধরে যেটি একাদশেও প্রতিফলিত হচ্ছে। টানা কয়েকটি টেস্ট খেলেছেন আবু জায়েদ রাহী, এবাদত হোসেন। নির্বাচকরা, হেড কোচ সবাই দুই পেসারকে পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সর্বশেষ টেস্টে রাহী-এবাদতের কথা ভেবেই স্পিন উইকেটের ফর্মুলা থেকে বের হয়ে আসার সাহস দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
রাসেল ডমিঙ্গো-মুমিনুলের উদ্যোগে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে পেসারদের বোলিংয়ে। রাহী নিয়েছিলেন দুই উইকেট। পরের দিন সকালে নেন আরো দুই উইকেট। অপর প্রান্তে উইকেটশূন্য থাকলেও এবাদতের বোলিং প্রশংসা কুড়িয়েছে বেশ। ১৭ ওভার বোলিং করে মাত্র ২৬ রান দিয়েছিলেন ডানহাতি এই পেসার। ইকোনমি ১.৫২। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ ওভারে দেন ১৬ রান।
গত বছর নভেম্বরে ভারতের বিরুদ্ধে ইন্দোরে এবাদতের বোলিং দেখে ফেসবুকে ‘হাফ ভলি মাস্টার’ স্ট্যাটাসও পড়েছিল। তারপর ইডেনে বেশ উন্নতি এসেছিল তার বোলিংয়ে। নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। রাওয়ালপিন্ডিতে পেয়েছেন ১ উইকেট। ৬ টেস্টে ৬ উইকেট সন্তোষজনক পারফরম্যান্স নয়। তবে লাল বলে তার ক্রমাগত উন্নতি দেখে তুষ্ট টিম ম্যানেজমেন্ট।
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম দিনে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করার বড়ো সার্টিফিকেটটা পেয়েছেন পেসাররা তামিম ইকবালের কাছ থেকে। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান প্রশংসা করেছেন দুই পেসারের। গতকাল মুঠোফোনে এবাদত বলছিলেন, ‘প্রথম দিনের পর ড্রেসিংরুমে তামিম ভাইয়ের কথা শুনে আমার কলিজাটা ভরে গেছে। উনি বলেছেন, উনার দেখা বাংলাদেশের সেরা পেস বোলিং।’
উইকেট না পেলেও হতাশ নন এবাদত। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের প্রশংসা পেয়েছেন। ২৬ বছর বয়সি এই পেসার গতকাল বলেন, ‘অবশ্যই উইকেট দিয়ে পারফরম্যান্স কাউন্ট করা হয়। কোচ বলেছে তুমি যে বোলিং করেছ, তাতে আরো উইকেট ডিজার্ভ করো। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এভাবে বোলিং করে গেলে সামনে দেখবা, এমন বলে উইকেট পাবা, যা তুমি ভাবো নাই।’
মিরপুর টেস্টে এবাদতের ভূমিকা ছিল একটানা এক জায়গায় বোলিং করার। কোচদের প্ল্যান অনুযায়ী উইকেট আসুক না আসুক, প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে হবে। বল হাতে সেই চেষ্টা করে গেছেন তিনি।
টেস্ট দলের দুই পেসারই এখন সিলেটের। পরস্পরের মাঝে বোঝাপড়াও বেশ ভালো। এবাদত বলছিলেন, ‘রাহী আমার চেয়ে অভিজ্ঞ। আমরা সিলোটি। তার কাছ থেকে অনেক সাপোর্ট পাই আমি। ও সবসময় বলে, এবাদত পাশে থাকলে আমি উইকেট পাই। সুইং ওর বড়ো অস্ত্র। আমি ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করি। ওর বল ওরা চেজ করে মারতে গেছে। আমারগুলো ছেড়ে দিয়েছে।’
সবার সমর্থন অব্যাহত থাকলে অচিরেই লাল বলের ক্রিকেটে বলার মতো সাফল্য আসবে বলে বিশ্বাস এবাদতের। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য বড়ো সুযোগ এটি। সবার সমর্থন থাকলে, আর এভাবে সুযোগ পেলে সামনে আরো ভালো হবে। ভালো করার ক্ষুধা আমাদের মাঝে আছে। দ্রুত উন্নতি করতে, লাল বলের বোলিংটা শিখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
শুধু টিম ম্যানেজমেন্ট নয় টেস্টে বিশ্বমানের পেস আক্রমণ গড়ে তুলতে হলে এবাদত-রাহীদের প্রতি এখন সমর্থকদের সমর্থনের ছাতাটাও আবশ্যক।
