বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন আগেই জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বাফুফের নির্বাচন দেবেন। গতকাল বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিল এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যদিও ৩০ এপ্রিল বাফুফের বর্তমান কমিটির চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। তবে ১০ দিন আগে নির্বাচন দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সভা শেষে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী সংবাদমাধ্যমকে জানান, রোজার কারণে নির্বাচন এগিয়ে আনা হয়েছে।
এই নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন মেজবাহউদ্দিন আহমেদ, নির্বাচন কমিশনার মাহফুজুর রহমান সিদ্দিকী ও মোতাহের হোসেন সাজু। বাফুফের নির্বাচনে সভাপতি একজন, সিনিয়র সহসভাপতি একজন, সহসভাপতি চার জন, বাকি ১৫ জন হচ্ছেন সদস্য।
সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আমাদের মেয়াদ শেষের দিকে। আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ এপ্রিল বাফুফের এই কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এবার নির্বাচন একটু এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রমজানের কথা ভেবে ১০ দিন আগে, অর্থাত্ আগামী ২০ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাফুফে সভায়।’
নির্বাচনের কাউন্সিলর চূড়ান্ত হয়নি। সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে এখনো এক মাস ২০ দিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে ঢাকার বাইরে কাউন্সিলর চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি। গতবার ১৩৪ জন কাউন্সিলর ছিলেন।
গত নির্বাচনে (২০১৬) কাজী সালাহউদ্দিনের প্যানেলে ছিলেন সহসভাপতি বাদল রায়। আর নির্বাচনী সমন্বয়ক ছিলেন সাইফ পাওয়ারটেকের কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিন। সালাহউদ্দিনের সঙ্গে দূরত্বের কারণে বাফুফের সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য গত দুই বছর রুহুল আমিন সক্রিয় ছিলেন। সালাহউদ্দিনের সমালোচনায় মুখর ছিলেন।
জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হয়ে ফুটবলে কাজ করার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তরফদার রুহুল আমিন। ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেও সালাহউদ্দিন মাঠেই ছিলেন। তরফদার রুহুল আমিন সরে গেলেও তিনি অন্য যে কোনো পদে নির্বাচন করতে পারেন। তবে বাদল রায় ঘোষণা দিয়েছেন, তিনিও সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন। গতকাল বাফুফের সভা শেষেও বলেছেন নির্বাচন করবেন তিনি।
তার পরও প্রার্থী খুঁজছেন। না থাকলে তিনি মাঠে থাকবেন। সালাহউদ্দিনের দিকে আঙুল তুলে বাদল রায় বলেন, ‘ওনার নেতৃত্বে কাজ করব না। অন্য কেউ সভাপতি হলে কাজ করব। ২০ এপ্রিল একটা পরিবর্তন দেখতে পারব। আজকের ঘোষণায় অনেকের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে।’
আগের নির্বাচনটি হয়েছিল হোটেল র্যাডিসনে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এমনটি করা হয়েছিল। আতঙ্ক ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা যেন না ঘটে। কিন্তু এবারের নির্বাচন বাফুফে ভবনে হবে বলে জানিয়েছেন সালাম মুর্শেদী। তিনি বলেন, ‘এবার কোনো ঝুঁকি দেখছি না। আমাদের কাউন্সিলররা অনেক ভদ্র এবং মার্জিত। তাই ফুটবলের নির্বাচন ফুটবলের জায়গায় করাটাকে শ্রেয় মনে করি। পরিবারের নির্বাচন হবে পরিবারের ভবনে।’
বর্তমান কমিটির মেয়াদে দেশের ফুটবল চর্চা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে সালাম বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট। কাজী সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে আমরা গত চার বছরে অনেক কর্মকাণ্ড করেছি। তবে আমি মনে করি, সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকার আমার নেই, মূল্যায়ন করবে অন্যরা। নির্বাচন মানেই বিভ্রান্তি। এ সময় নানা রকম কথা হবে। আমরা চেষ্টা করেছি ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার। জাতীয় দল সাফল্য না পেলেও বয়সভিত্তিক দলগুলো ভালো করেছে।’
