আলোকপাত

পথ চলতে সতর্ক হোন!

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০২

নামে তিলোত্তমা শহর ঢাকা। কিন্তু রাস্তাঘাটে চলার সময় উটকো ঝামেলা ঘাপটি মেরে বসে থাকে এই শহরের এখানে-সেখানে। পথেঘাটে চলতে সামান্য অসতর্কতায় ঘটে যায় দুর্ঘটনা। পথচারী, যাত্রী, কিংবা চালক আপনি যে ভূমিকায় থাকুন না কেন, সজাগ থাকতে হবে সব সময়। জীবনযুদ্ধের অসীম ভাবনা অন্তত পথ চলার সময় ভাবতে যাবেন না। জীবনের ভুল ভ্রান্তির হিসাব-নিকাশের জায়গা নিশ্চয়ই রাস্তাঘাট নয়। তাই চলতি পথের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সতর্ক ও সাবধান থাকা খুবই জরুরি।

অফিস, স্কুল বা কর্মস্থলে যেতে হলে হাতে একটু বেশি সময় নিয়ে বাসা থেকে বের হোন। জীবন বিপন্ন করে রুদ্ধশ্বাসে কর্মস্থলে ছোটা মোটেও সুবিবেচনার কাজ নয়। মাথা ঠান্ডা রাখুন। ঝুঁকি নিয়ে বাসের দরোজায় ঝুলতে যাবেন না। কোনো দিকে না তাকিয়ে বেহুঁশের মতো রাস্তা পার হতে চাইলে অ্যাক্সিডেন্টের আশঙ্কা থাকে শতভাগ। তাই রাস্তা অতিক্রমের সময় ডানে বামে দেখে নিন। প্রয়োজনে অপেক্ষা করুন। রাস্তা ফাঁকা হলে পার হোন। জেব্রাক্রসিং বা ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে নিজেকে অভ্যস্ত করে নিন। পায়ে হাঁটা পথ হলে রাস্তায় না হেঁটে ফুটপাত বেছে নিন।

আজকাল ট্যাক্সি, বাস ও ট্রেনের জানালায় ছদ্মবেশী ছিনতাইকারী ঘোরাফেরা করতে থাকে। ট্রেন বা বাস ছেড়ে দেওয়া মাত্রই তারা আপনার হাতঘড়ি, স্বর্ণের চেইন বা কানের দুল, মোবাইল সেট টান দিয়ে ছিনিয়ে নিতে পারে। সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যাবশ্যক। যানজটে আটকা পড়লেই সতর্কতামূলক দৃষ্টি নিয়ে যানবাহনে অবস্থান করুন। স্মার্টফোন হাতে না রেখে পকেটে রাখাই ভালো। অথবা কোমরে বেল্টের সঙ্গে ঝোলাতে পারেন। আর একান্তই যদি হাতে রাখতে হয় তাহলে রাখুন চোখ-কান খোলা রেখে।

আপনি রিকশার আরোহী হলে অবশ্যই রিকশার হুড তুলে নেবেন। মহিলারা শাড়ির আঁচল কিংবা ওড়না দিয়ে কান ও গলা জড়িয়ে বসবেন। ছেলেদের ক্ষেত্রে ঘড়ি বা অ্যান্ড্রয়েড গেজেট সাবধানে রাখুন। আর গলায় চেইন থাকলে শার্টের বোতাম বুক পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করে অনেকেই উবার, পাঠাও ইত্যাদি নামে সিএনজি, স্কুটার বা ট্যাক্সি ক্যাবে উঠে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান। এভাবে শেয়ারে যাতায়াত করাটা বিপজ্জনক। চালক ও যাত্রীর ছদ্মবেশে অনেক ছিনতাইকারী ইদানীং শিকারের সন্ধানে রাস্তায় বের হয়। মাঝখানে চলন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তরা আপনার বুক বরাবর চাকু বা পিস্তল চেপে ধরতে পারে অথবা নিয়ে যেতে পারে নির্জন কোনো স্থানে। তারপর লুট করে নিতে পারে আপনার সবকিছু। কিছুই করার থাকবে না আপনার। সুতরাং শেয়ারে কোনো যানবাহনে উঠতে যাবেন না। অন্তত সন্ধ্যার পর তো নয়ই।

আপনি সিএনজি বেবিট্যাক্সি আরোহী হলে সিটের মাঝামাঝি জায়গায় বসবেন। সামনের দিকে ঝুঁকে না বসে পেছনে হেলান দিয়ে বসুন। মহিলারা পার্স, ভ্যানিটি ব্যাগ সামলে রাখুন। যারা হোন্ডা বা মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল চালান, তাদের মনোযোগ সব সময়ই রাস্তার দিকে রাখতে হবে। এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে আছেন আর অন্য হাতে জ্বলন্ত সিগারেট কিংবা কানের কাছে স্মার্টফোন ধরে কথা বলছেন, এটা ভীষণ বিপজ্জনক। এমন কাজ ভুলেও করতে যাবেন না।

আপনি কারের আরোহী হলে গাড়ির সবগুলো দরজার ভেতর থেকে লক করে দিন। সবগুলো জানালার কাঁচ তুলে দিন। প্যান্টের পেছনের মানি ব্যাগে কখনো অতিরিক্ত টাকা রাখবেন না। শার্ট বা প্যান্টের পকেটের অন্তত দুই জায়গায় টাকা ভাগ করে রাখতে পারেন। স্মার্টফোন সেটটি ক্লিপ দিয়ে পকেটে আটকে নিন। মেয়েদের গলায় ঝুলিয়ে রাখার জন্য বাজারে সুন্দর সুন্দর স্মার্টফোনের ব্যাগ পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি নিজেই যদি গাড়ি ড্রাইভ করেন তাহলে স্টিয়ারিং ধরার পরপরই ব্রেক স্যুতে চাপ দিয়ে পরখ করে নিন। দেখে নিন ট্যাংকিতে ঠিকমতো এবং পর্যাপ্ত ফুয়েল আছে কি না। টায়ারগুলো দেখে নিন টিউবে কোনো লিকেজ নেই তো? গাড়িতে উঠুন সিট বেল্ট বেঁধে। ড্যাশ বোর্ডটা খুলে আরেকবার দেখে নিন ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্লু বুক, ইন্স্যুরেন্স ইত্যাদি কাগজপত্র ঠিকঠাক আছে তো?

সবকিছু মিলিয়ে আপনি এমনভাবে প্রস্তুতি নিন যেন ছিনতাইকারী দুষ্কৃতকারী আপনাকে তার টার্গেট হিসেবে নির্বাচিত না করে।

n লেখক :বিজ্ঞান গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়