নাজমুল হক
ঢাকার বাড্ডা থেকে কুড়িল কুড়াতলী পর্যন্ত (প্রগতি সরণি) সড়ক একসময় মৃত্যুফাঁদ হিসেবে পরিচিত ছিল। বিগত সময়ে প্রতি বছর এই সড়কে ৭০-৮০টি দুর্ঘটনায় ৩০-৪০ জনের মৃত্যু ছিল অবধারিত। গত বছরের মার্চে বসুন্ধরায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার জেব্রাক্রসিং দিয়ে পারাপারের সময় নিহত হওয়ার কিছুদিন পর রাস্তার মাঝে বেষ্টনী (মিডআইল্যান্ড ব্যারিয়ার) ও বসুন্ধরার ফুটওভারব্রিজের কাজ করে সিটি করপোরেশন। প্রায় ৫ ফুট প্রশস্ত রাস্তার মাঝে তৈরি এই বেষ্টনী আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে সড়কের দুই পাশের বাসিন্দাদের। এই সম্বন্ধে শাহাজাদপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল করিম (প্রিন্স)-এর বক্তব্য—‘এক সময় এই সড়কটিকে আমরা ‘আজরাইলের রাস্তা’ বলে জানতাম। কারণ প্রতি এক বা দু সপ্তাহের ব্যবধানে এই সড়কে অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে দু-এক জনের মৃত্যু ছিল নিশ্চিত।’ স্থানীয় বাসিন্দা ইসরাত জাহান উর্মি বলেন, ‘বছরখানেক আগে এই সড়কে দুর্ঘটনায় আমার ফুফু মারা যান। আমার মেয়েকে সড়কের পূর্ব পাশের স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। প্রত্যেকবার রাস্তা পার হওয়ার সময় এখনো ভয়ে অন্তর কেঁপে ওঠে।’ ‘এই মুহূর্তে শাহাজাদপুরে একটি ফুটওভারব্রিজ অত্যন্ত জরুরি’, বললেন নর্দ্দা অধিবাসী ওমর ফারুক। তিনি জানান, সড়ক বেষ্টনী দেওয়ার পর দুর্ঘটনার মাত্রা ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
সড়কের মাঝে বেষ্টনী দেওয়াতে মানুষ এখন সুশৃঙ্খল হতে বাধ্য হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। তবে সড়কটিতে বড়ো একটি ত্রুটি রয়ে গেছে; আর তা হলো শাহাজাদপুর কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে একটি ফুটওভারব্রিজ খুব জরুরি। কারণ প্রতিদিন এই পয়েন্ট দিয়ে পঞ্চাশ সহস্রাধিক মানুষ রাস্তা পার হয়। রাস্তার দুই পাশে ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এই পয়েন্ট দিয়ে রাস্তা পার হয়। সুতরাং এই পয়েন্ট ফুটওভারব্রিজ একান্ত প্রয়োজন।
মিডআইল্যান্ড ব্যারিয়ার বা বেষ্টনী দেওয়ার পর প্রগতি সরণি সড়কে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়। এখন যেখান সেখান দিয়ে কেউ সড়ক পার হতে পারে না, যার দরুন এই এলাকার যানজট হ্রাস পেয়েছে এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পেয়েছে। সড়কটিকে সম্পূর্ণ দুর্ঘটনা ও যানজট মুক্ত করার জন্য আরো পাঁচটি ফুটওভারব্রিজ প্রয়োজন; বিশেষ করে যমুনা ফিউচার পার্ক, শাহাজাদপুর ও লিঙ্ক রোডের ফুটওভারব্রিজ খুব দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে। অবশ্য ফুটওভারব্রিজের বিকল্প হিসেবে বর্তমানে যে জেব্রাক্রসিং দেওয়া হয়েছে তাতে কোনো সিগনাল লাইটের ব্যবস্থা নেই। এসব ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হওয়ায় ঐ পয়েন্টগুলোতে যানজট সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ায়। সেখানে সব সময়ের জন্য দুজন ট্রাফিক পুলিশ প্রয়োজন হয়; অথচ ফুটওভারব্রিজ করে দিলে ট্রাফিক পুলিশের আর প্রয়োজন হবে না, যানজট কমবে, সর্বোপরি ছাত্রছাত্রী বা সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।
ঢাকা
০
