রাঙ্গামাটিতে জনপ্রিয় হচ্ছে ফুল চাষ

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১০

রাঙ্গামাটিতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফুল চাষ। শহরের বিভিন্ন নার্সারি ও বিভিন্ন এলাকায় ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফুলের বাগান। যেন প্রকৃতির এক নৈসর্গিক উপহার। প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন জাতের ফুলগাছে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। ফুলের বাগানে বছর জুড়ে উত্পাদন হচ্ছে দেশি বিদেশি নানা জাতের ফুল। পাহাড়ের এসব ফুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে অন্যত্র।

রাঙ্গামাটির পাহাড়ি এলাকায় সফলতা পেয়ে অনেকেই ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এক সময় পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ অসম্ভব ছিল। ইদানিং পাহাড়ের উঁচু জমিতে আর নার্সারিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ডালিয়া, জিনিয়া, গোলাপ, গাঁদা, সালভিয়া, এষ্টার ফুল, ডাইনথাস ফুলসহ বিভিন্ন জাতের ফুল। মায়ের দোয়া নার্সারির মালিক মো. সালাউদ্দিন জানান, প্রতিদিন বাগানে শত শত গোলাপসহ নানা জাতের ফুল ফোটে। ফুলের বাগান দেখতে আসেন অসংখ্য নারী পুরুষ। আর ফুলের চাহিদা ভালো থাকায় এ বছর বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি ভেদভেদী এলাকার ফুলচাষি জেকি তালুকদার জানান, আমার বাসার এক পাশে জমিতে ছোটো পরিসরে ফুলের বাগান করেছিলাম। পরবর্তীতে ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১০ শতক জায়গায় ফুলের চাষ করে আসছি। দিন দিন ফুলের চাহিদা বাড়ায় লাভজনক হয়ে উঠেছে ফুল চাষ। এতে করে নিজেরাই এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছি।

পাহাড়ে ফুল চাষ বিষয়ে রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শান্তি চাকমা বলেন, পাহাড়ের সেচ সুবিধা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখানে দেশি-বিদেশি ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ সম্ভব। পাহাড়ে ব্যাপকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে। তাই কৃষি সম্প্রসারণ থেকে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, পাহাড়ের জমিতে ফুল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর ফুল আমাদের বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায়ও ব্যবহার হচ্ছে। দিন দিন ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে ফুলচাষিদের কীটনাশকসহ উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। আর বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করা গেলে এ পাহাড়ি অঞ্চলে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি বিদেশে ফুল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করা সম্ভব হবে।