টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে ভেষজ বাগান দখলের অভিযোগ উঠেছে। ফলে মাদার ট্রি থেকে বৃক্ষবীজ সংগ্রহের উত্স বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বৃক্ষবীজ ব্যবসায়ীরা জানান, ভেষজ বাগানটি উজাড় হলে বিরল প্রজাতির বৃক্ষবীজ সংগ্রহের উত্স বন্ধ হয়ে যাবে। বেসরকারি খাতের নার্সারি ও বনায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জানা গেছে, বন বিভাগ প্রতি বছর বিরান ভূমি প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিদেশি প্রজাতির বৃক্ষচারায় উডলট ও এগ্রোফরেস্ট্রি মডেলের বনায়ন করেন। এ ধরনের বনায়নে গাছের চারার ফাঁকে কৃষি ফসল করার কথা। কিন্তু প্রভাবশালীরা কৃষি ফসলের পরিবর্তে কলা ও আনারসের বাণিজ্যিক আবাদ করেন। আনারস ও কলার দাপটে প্লটের বনজ বৃক্ষচারা সবল বা পরিপুষ্ট হওয়ার সুযোগ পায় না।
অরনখোলা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার হুমায়ুন মিয়া অভিযোগ করেন, এভাবে প্লট বরাদ্দের যে বনায়ন তা বনভূমি জবরদখলের সুযোগ সৃষ্টি করে।
জাঙ্গালিয়া গ্রামের রীতি দফো জানান, প্লট বরাদ্দের অছিলায় প্রভাবশালীরা আশপাশের গজারি বনের গাছপালাও উজাড় করেন। বন বিভাগ সেসব উজাড় ভূমিতে গজারি চারা না লাগিয়ে বিদেশি বৃক্ষচারায় অংশীদারিত্বের বনায়ন করেন। এ ধরনের বনায়নে প্রচুর সরকারি বাজেট থাকে। তাই বনকর্মীরা বিনা খরচায় গজারি চারা না লাগিয়ে প্লট বরাদ্দের উডলট বাগানে আগ্রহী। এতে বনায়ন খাতের সরকারি টাকা নয়ছয় করা যায়। পাশাপাশি প্লট বরাদ্দের নামে সেলামিও মিলে।
চুনিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক হারুন অর রশীদ জানান, বন বিভাগের এ ধরনের বনায়ন কার্যক্রমে গজারি বন যেমন উজাড় হচ্ছে, তেমনি উডলট এগ্রোফরেস্ট্রি মডেলের বনায়নও সফল হচ্ছে না। ফায়দা লুটছে জবরদখলকারীরা। অপরদিকে বন বিভাগ ২০০৩ সালে মধুপুর বিটে ৫০ একরের ভেষজ বাগান করে। গুবুদিয়া গ্রামের বৃক্ষবীজ ব্যবসায়ী কিতাব আলী জানান, দেখভালের অভাবে এ ভেষজ বাগানের গাছপালা উজাড় হচ্ছে। চলছে জবরদখল। মধুপুর বিটের ফরেস্ট ওয়ার্কার হুমায়ুন জানান, প্রভাবশালীরা জোর করে ভেষজ বাগানে কলা ও আনারস আবাদ করছেন। তবে গাছ পাচারের ঘটনা ঘটেনি। মধুপুর রেঞ্জের ফরেস্টার আমিনুর রহমান জানান, উডলট ও এগ্রোফরেস্ট্রি মডেলের অংশীদারিত্বের বনায়ন বনভূমি জবরদখলের বড়ো কারণ। প্রভাবশালীরা প্লট বরাদ্দ নিয়ে জোরপূর্বক আনারস ও কলার আবাদ করেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া খুবই কঠিন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে গজারি বন উজাড় বন্ধ রয়েছে। মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক জামাল হোসেন জানান, বন রক্ষায় বন বিভাগ সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।
