কেশবপুরে কমে যাচ্ছে কালোমুখো হনুমান!

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১২

খাদ্য সংকট, সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যু ও অভয়ারণ্য না থাকায় নিরাপদ প্রজননে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় যশোরের কেশবপুরের বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান কমে যাচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়, ফলজসহ বিভিন্ন বৃক্ষ উজাড় হওয়ায় দেখা দেয় হনুমানের খাদ্য সংকট। মানববন্ধনের মাধ্যমে বিরল প্রজাতির হনুমান রক্ষা ও খাদ্যের জন্য দাবি করায় সরকার সামাজিক বন বিভাগের মাধ্যমে ২০০৬ সাল থেকে ঠিকাদার নিযুক্ত করে পাকা কলা, বেগুন, বাদাম ও বিস্কুট দেওয়া শুরু করে। কিন্তু গত বছর থেকে হনুমানের খাদ্য কমিয়ে দেওয়া হয় অর্ধেকে। কেশবপুর শহরের স্থায়ী বাসিন্দা কালিপদ অধিকারী জানান, এক সময় ৭-৮  হাজার হনুমান ছিল, বর্তমানে এ সংখ্যা হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে।

অপর বাসিন্দা মহিউদ্দিন গাজি বলেন, খাদ্য সংকট, সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যু ও অভয়ারণ্য না থাকায় নিরাপদ প্রজননে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান বিলুপ্ত হতে চলেছে। কেশবপুর হাজী মহিলা কলেজের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হারিন চৌধুরী বলেন, যেহেতু বনবাদাড় আগের মতো নেই। উজাড় হয়ে যাচ্ছে, তাতে প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়ে এই বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান বিলুপ্ত হচ্ছে। কেশবপুর ফরেস্টার বন বাগান কেন্দ্র কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, হনুমানের খাবারের জন্য আগে যে বরাদ্দ ছিল বর্তমানে তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যশোর সামাজিক বন বিভাগ থেকে কেশবপুরের হনুমানের জন্য ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩০৩ দিনের জন্য ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৬ দশমিক ৩৩২ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে হনুমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।