কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, নাঙ্গলকোট উপজেলার সীমানাস্থল যুক্তিখোলা বাজারের পাশে ১৯৮৭ সালে ঐ তিন উপজেলার নামের আদ্যাক্ষরে ‘চলন মহাবিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এ কলেজের অবস্থান নবগঠিত লালমাই উপজেলায়। একসময় কলেজটির বেশ সুনাম থাকলেও ধীরে ধীরে তা ম্লান হয়ে পড়ে। এখন এই কলেজের মাঠে প্রতি সোমবার বসে গরুর হাট। এজন্য এদিন কলেজে অঘোষিত ছুটি থাকে। এদিন কখনো এক-দুইটা ক্লাস হয়, আবার কোনোদিন তাও হয় না। এছাড়া নানা অনিয়মের কারণে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ স্থানীয় এলাকার লোকজন।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, অধিকাংশ শিক্ষক সময়মতো কলেজে আসেন না। ফলে পার্টটাইম (খণ্ডকালীন) শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানো হয়। অধ্যক্ষ নিজেও নিয়মিত কলেজে আসেন না। শিক্ষা প্রশাসনের নজরে কিছু অনিয়ম ধরা পড়ায় চাপে পড়ে কলেজ অধ্যক্ষ এক শিক্ষককে শোকজ ও অন্যজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। তারা দুই জন আবার কলেজ অধ্যক্ষসহ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক মহিউদ্দিন আলমগীর বলেন, ‘অধ্যক্ষ আমাকে পছন্দ করেন না, বিনা কারণে শোকজ করে আমার বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই মামলা দায়ের করেছি।’
একাদশ শ্রেণির অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী জানায়, ‘কলেজে শিক্ষকরা নিয়মিত আসেন না, ঠিকমতো ক্লাস হয় না। পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে ক্লাস হয়। তাই আগ্রহ হারিয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও একেবারে কমে গেছে। বেতন ও অন্যান্য ফিস পরিশোধ করেও আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এছাড়া কলেজ মাঠে প্রতি সোমবার গরু বাজারের কারণে বর্জ্যের উত্কট গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত হচ্ছে।’ কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল্লাহ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অধ্যক্ষ নিজেই কলেজে আসেন সাড়ে ১১টার পর। প্রত্যেকদিন আসেন না। সম্প্রতি শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারাও এসে তার কক্ষে তালা দেখেছেন। সেদিন ১১ জন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন। এখানে অনেক অনিয়ম। অনেক শিক্ষক সময়মতো আসেন না।’ কলেজ মাঠে গরু বাজারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাজারের আয় দিয়ে কলেজ উন্নয়নের কাজ হয়। তাই গরু বাজারের দিন ১২টার দিকে কলেজ ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।’ কলেজ অধ্যক্ষ আলী হোসেন মজুমদার বলেন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে কাজ থাকার কারণে মাঝে মাঝে কলেজে যেতে পারি না। তিনি আরো বলেন, হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক মহিউদ্দিন আলমগীর কলেজে আসেন না, তাই শোকজ করেছি। আইসিটি শিক্ষক আমীরুজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছে, সেও মামলা করেছে। তবে আগে কিছু অস্বচ্ছ নিয়োগ হয়েছে। সেসব শিক্ষককে দিয়ে দায়িত্ব পালন করাতে সমস্যা হচ্ছে।’ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. আবুল খায়ের মুন্সী বলেন,‘আমরা কয়েকদিন আগে কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে অধ্যক্ষ ও কিছু শিক্ষককে অনুপস্থিত পেয়েছি। ক্লাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বদলে শিক্ষার্থীরা অন্যদের নাম বলছে।’ কলেজ মাঠে গরুর হাটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই গুণগত শিক্ষার জন্য কাজ করছি। সেখানে মাঠে গরু বাজার এবং বাজারের জন্য কলেজ আগে ছুটি দিয়ে দেওয়া দুঃখজনক। পরিদর্শনে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। বাজার বন্ধের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। এমপিওভুক্ত কলেজের সকল সুবিধা সরকার দিচ্ছে, সেখানে কলেজের উন্নয়নের নামে মাঠে গরু বাজার বসিয়ে আয় করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’
