আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যুতের দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে। এটা সাময়িক সমস্যা, এই সমস্যা বেশি দিন থাকবে না। এই সাময়িক মূল্য বৃদ্ধি সবাইকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর হাতিরপুলের সোনারগাঁ রোডে ফিকামলি সেন্টারে শহিদ সেলিম-দেলোয়ার দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, মুজিববর্ষে ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ আরো সহজলভ্য করার জন্য সাময়িকভাবে একটু দাম বাড়নো হচ্ছে। বিদ্যুত্ উত্পাদনের খরচের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য এটা হয়েছে। বিদ্যুত্প্রাপ্তি সহজলভ্য করার জন্যই এই সাময়িক দাম বাড়ানো। এতে হয়তো সাময়িক কষ্ট হতে পারে। এই দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘বিএনপির আমলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকত না। সেই দুর্ভোগ এখন আর নেই। ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ সহজলভ্য করার জন্যই এই সামান্য দাম বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানের জন্য এই সাময়িক সমস্যাটা আশা করি সবাই মেনে নেবেন।’ তিনি বলেন, বিদ্যুত্ আর পানির সেবা পেতে আপনাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এই শহরে পানি আর বিদ্যুতের কোনো হাহাকার নেই। এই হাহাকার যেন আর কোনোদিন না হয়।’
শহিদ সেলিম-দেলোয়ারের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ড. মো. আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি রুহুল আমিন প্রমুখ। ১৯৮৪ সালের এ দিনে ছাত্রমিছিলে তত্কালীন স্বৈরশাসকের লেলিয়ে দেওয়া ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় শহিদ হন ছাত্রনেতা সূর্যসেন হলের ইব্রাহিম সেলিম ও জহুরুল হক হলের কাজী দেলোয়ার হোসেন। দিনটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদের আয়োজন করা হয়।
ভারতকে বাদ দিয়ে মুজিববর্ষের
উত্সব করা যায় না
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী, বিশ্বস্ত বন্ধু। দেশটির সঙ্গে আমাদের চমত্কার সম্পর্ক বিরাজমান। মুজিববর্ষের উত্সব ভারতকে বাদ দিয়ে করা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে অভ্যন্তরীণ সংকট চলছে। পাশের ঘরে আগুন লাগলে সেই আগুনের আঁচ প্রতিবেশীর ঘরেও আসে। দিল্লির সংকট-রক্তপাত আর না বাড়িয়ে দ্রুত এর সমাধান করতে আমরা আহ্বান জানাই। কিন্তু এজন্য ১৯৭১ সালের রক্তের সম্পর্কের বন্ধুত্বকে বিসর্জন দিতে পারি না। মুজিববর্ষের উত্সবে ভারতকে আমন্ত্রণ না জানালে তা হবে অকৃতজ্ঞতা; অবমাননা হবে বন্ধুত্বের প্রতি। কারণ স্বাধীনতার সময় বিদেশি সাহায্য-সহানুভূতি ও আশ্রয় দিয়েছে ভারত। অন্য কোনো দেশ এমন করে পাশে ছিল না। দুঃসময়ের বন্ধুদের বাদ দিয়ে মুজিববর্ষ আমরা পালন করতে পারি না।’
