দিল্লিতে এক বিচারপতির বদলি নিয়ে শোরগোল

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৭

ভারতের রাজধানীতে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যে দিল্লি হাইকোর্টের একজন বিচারপতির বদলি নিয়ে বিতর্ক-সন্দেহ দানা বাঁধছে। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধর এবং আরেক বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ বুধবার সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তিন জন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে বিচার-বিভাগীয় তদন্তের এক আবেদনের শুনানি শুরু করেন। শুনানির সময় হাইকোর্টের ঐ বেঞ্চ অভিযুক্ত বিজেপি নেতাদের বক্তব্য-বিবৃতির ভিডিও শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেয়। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই সরকার তাকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির নোটিশ ইস্যু করে।

বুধবারের ঐ শুনানির আগের দিন মধ্যরাতেও বিচারপতি মুরলীধর তার নিজের বাড়িতে আদালত বসিয়ে সহিংস সম্পর্কিত এক অভিযোগের শুনানি করে আহতরা যাতে নিরাপদে হাসপাতালে যেতে পারে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেন।

ভারতের বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখা হচ্ছে, সহিংসতা সম্পর্কিত ঐ সব শুনানির সময় বিচারপতি মুরলীধর পুলিশকে কঠোরভাবে তিরস্কার করেন। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম থেকে অবশ্য          এ মাসের ১২ তারিখ বিচারপতি মুরলীধরসহ তিন জন বিচারপতিকে বদলির সুপারিশ প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু যে প্রেক্ষাপটে এখন তড়িঘড়ি করে প্রেসিডেন্ট সেই সুপারিশে অনুমোদন দিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বদলির নির্দেশ জারি করা হলো—তা নিয়ে বড়ো ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেস বিচারপতি মুরলীধরের বদলির পেছনে সরকারের রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে। কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইট করেছেন, সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় যেভাবে হস্তক্ষেপ করছে তা দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক।