পাপিয়ার মামলা তদন্ত করতে চায় র্যাব

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৯

যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত আলোচিত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার মামলা বিমানবন্দর থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে মামলাটি তদন্তে আগ্রহী র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন)। পাপিয়াসহ চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে র্যাব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি সুজয় সরকার। তিনি বলেন, ‘পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। অনুমোদন পেলে কোর্টের মাধ্যমে তাকে আমাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রবিবার অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

এদিকে বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বি এম ফরমান আলী বলেন, পাপিয়ার মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার রাতে গোয়েন্দা দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। এখন তিনি সেখানেই আছেন। তিনি জানান, বিভন্ন গণমাধ্যমে পাপিয়ার ব্যাপারে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো তার জিজ্ঞাসাবাদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি ছিল।

ওসি ফরমান আলী আরো বলেন, ‘পাপিয়ার ব্যাপারে আমরা অনেক তথ্যই গণমাধ্যম থেকে পেয়েছি। এর মধ্যে অনেক ব্যাপারই আমরা আগে থেকে জানতাম না।’ তিনি বলেন, তবে তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলা যাবে না।

মহানগর গোয়েন্দা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির উত্তরের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের সহকারী পরিচালক শাহিদুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় পাপিয়া সম্পর্কে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাইবাছাই করা দেখা হচ্ছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে থাইল্যান্ডে পালানোর সময় জাল টাকাসহ শামীমা নূর পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, তাদের সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে আটক করে র্যাব।

রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে ও নরসিংদীতে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ তাদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। অভিযানে ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি, ২৪ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।

এসব মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীর ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তাদের অপর দুই সহকারী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবার পাঁচ দিন রিমান্ড দেয় আদালত।