ওষুধ নেই, ডাক্তার নেই—চিকিত্সা সেবা না পেয়ে বিভিন্ন বয়সি রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। এ দৃশ্য চোখে পড়ল ঘিওর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে। জনবল সংকট ও সুষ্ঠু তদারকির অভাবে সেখানে বেহাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৫৬ সালে কুকুরতারা (গোলাপ নগর) গ্রামের মৃত ওয়াজীর আলীর ছেলে মো. ফাজেল আহাম্মদের দ্বারা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত ভবনটি ভালোভাবে মেরামত বা কোনো ভবন তৈরি করা হয়নি। তখন এর নামকরণ হয়েছিল ঘিওর ওয়াজীর আলী দাতব্য চিকিত্সালয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় নিয়ে ঘিওর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নামকরণ হয়। এখানে ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। এতে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ গ্রামীণ শিশু, নারী ও সাধারণ রোগীদের চিকিত্সা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলিজনিত কারণে প্রায় জনবল শূন্য হয়ে পড়ছে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিত্সা কার্যক্রম। ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের। জনবল সংকটের কারণে গর্ভবতী মহিলারা প্রসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে নিয়ে যেতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। নিয়মিত তদারকির অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি।
ঘিওর স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ইফ্ফাত জাহান জানান, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে মেডিক্যাল অফিসার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়ক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ভিজিটরসহ পাঁচটি পদ রয়েছে। এর বিপরীতে আছেন মাত্র তিন জন। মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসমা ও মো. শফিকুল ইসলামকে ডেপুটেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০-৫০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন। পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় রোগীদের তা দেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের টিনশেড ভবনটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানিতে ভরে যায়। চারপাশে প্রাচীর না থাকায় আশপাশের লোকজন আস্তে আস্তে জায়গা দখল করে নিচ্ছে। বুধবার হাটের দিন লোকজন ভেতরে প্রবেশ করে প্রাকৃতিক কাজ সারে। এমনকি রাতে সেখানে লোকজন নেশা করে, ফেনসিডিলের বোতল ভেতরেই ফেলে রেখে যায়। সেখানে বৈদুতিক মিটার থাকলেও সংযোগ নেই, কোয়ার্টারের রুমগুলো ব্যবহারের অযোগ্য। সেই সঙ্গে রয়েছে পানির সমস্যা। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চারপাশে ময়লা আবর্জনায় ভরা। এসব সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
চিকিত্সা সেবা নিতে আসা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার জ্বর কাশি। এসেছিলাম ওষুধ নিতে, এখানে ওষুধও নেই ডাক্তারও নেই, তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।
ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, অনেক দিন যাবত্ সেখানে চিকিত্সক নেই, ওষুধও নেই, অন্যান্য পদেও লোক নেই, তাই এই এলাকার মানুষ চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সঠিকভাবে দেখভাল না করায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ঝোঁপঝাড়ে ভরে গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৌমেন চৌধুরীও সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ডাক্তার সংকট রয়েছে, তাই রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার ডাক্তার নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তারসহ অন্যান্য পদে জনবল দিতে পারব বলে আমি আশাবাদী।
