একজন মামুনুর রশীদ যেমন বিরল দিনে জন্মগ্রহণকারী তেমনি এ রকম মানুষও পৃথিবীতে বিরল হয়েই আসে। তার মতো পরোপকারী মানুষ এই অঙ্গনে খুবই কম। কত স্মৃতি, কোনটা রেখে কোনটা বলবো। আমার জীবনে মঞ্চ টিভি দুটোরই হাতেখড়ি হয়েছে তার হাত ধরে।
এদেশের অনেকের আদর্শের জায়গায় আছেন মামুনুর রশীদ। আর আমি বলবো ব্যক্তি মামুনুর রশীদ আর নাট্যজন মামুনুর রশীদ দুটোই একজন তরুণের জন্য সঠিক পাঠ্য হতে পারে। মামুন ভাই এমন একজন। একবার আমি শুটিংয়ে বাইরে। আমার বড় দুলাভাই অসুস্থ। ঢাকার বাইরে থেকে দুলাভাইকে কীভাবে কোন হাসপাতালে নেবো কিছুই তার জানি না তখন। মামুন ভাই শুনলেন। আমি ঢাকায় হাসপাতালে ঢোকার আগেই দেখি মামুন ভাই হাসপাতালে সব ব্যবস্থা করে অপেক্ষা করছেন আমার জন্য। শুধু এটাই না। আমাদের নাটকের সকল মানুষ জানেন কেউ কোনোদিন, কখনো যত রাতই হোক একবার ফোন করে যদি কোনো সঙ্কটের কথা বলে সেটা সমাধান না করে তিনি বিছানায় যাবেন না। এমন মানুষ আমি আমার জীবনে দ্বিতীয়টি দেখিনি এখন পর্যন্ত। আমি তাই আমার পিতার আসনেই তাকে রাখি। আমরা দু’জনই একসঙ্গে একই ছবিতে কাজ করার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাই। সে এক মহা আনন্দের দিন ছিল আমার জীবনে। বুকে জড়িয়ে মামুন ভাই আশীর্বাদ করলেন।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের ৩০ বছর পর স্বামীকে নিয়ে মুখ খুললেন ভাগ্যশ্রী!
এছাড়া এক নির্মোহ জীবনের অভ্যেস দেখিয়েছেন মামুন ভাই। আমরা অনেককেই দেখেছি নিজের এক গাম্ভীর্যের আবরণ তৈরি করতে। তা থেকে হয়তো ছোটরা দূরে থাকে ভয়ে। মামুন ভাইয়ের ব্যক্তিত্ব তাদের থেকেও আকাশ ছোঁয়া, কিন্তু কোনো দূরত্ব নেই। আজ পরমপ্রিয় শ্রদ্ধার এই মানুষটির ১৮তম জন্মদিন। আমি তাকে বললাম মামুন ভাই, তারুণ্য আপনাকে ছুঁতে এলো কেবল! এই তারুণ্য, মামুন ভাইয়ের এই যে মিষ্টি হাসি দিয়ে কথা বলা। এটাই আমার, আমাদের জন্য আশীর্বাদ। অনেকদিন পর নিজের অন্য অনেক ব্যস্ততার পর আবারও মঞ্চে ফিরছি। মামুন ভাইয়ের নাটক দিয়েই। শুধু এটুকু বলবো মামুন ভাই, আপনি আমাকে যতটা ভালোবাসা/শিক্ষা/শাসন দিয়ে আগলে রেখে বড় করেছেন। সেই স্নেহ আমার জীবনের সম্পদ। আমি আমরা সকল নাট্যকর্মীরা গর্বস্মরে বলতে পারি আমাদের একজন মামুনুর রশীদ আছেন। আপনার সুদীর্ঘ সুস্থতা কামনা করি।
ইত্তেফাক/এমএএম

