নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কুমার নদ থেকে বালু উত্তোলন

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২০, ২১:১৩

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাসের পর মাস কুমার নদ থেকে বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। নদ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে এর পাড়সহ সড়কের বেশ কয়েক জায়গা ধসে পড়েছে। ঝুঁকিতে পড়েছে নদের উপর নির্মিত ভাঙ্গা ও ঘারুয়াসহ প্রায় ৬টি বড় ব্রিজ। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গা কলেজপাড়, বায়পাড়া, পীরেরচর বাজার, ঘারুয়া বাজায়, মুনসুরাবাদ বাজারসহ শতাধিক স্থানে ধস নেমেছে। ঝুঁকিতে রয়েছেন নদের পাড়ের বাসিন্দারাও।

বিষয়টি নিয়ে ২ মাস আগে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন সকল ধরনের বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। প্রশাসন লোক দেখানো নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা মাত্র সপ্তাহ খানেক বহাল ছিল। পরবর্তীতে পুরোদমে ফের চালু হয়ে যায় বালু উত্তোলন। বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ২০টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু হয়। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি এমপি নিক্সন চৌধুরী কাপুরিয়া সদরদী এলাকায় কুমার নদ থেকে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে তাত্ক্ষণিক বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন।

এ সময় তিনি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিভাবে চক্রটি বালু উত্তোলন করছে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করতে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের অনুরোধ জানান। এর সাথে যদি প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকে তাদেরসহ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এমপি বলেন, নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পেতে সরকার যেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ নির্মাণ করছে, সেখানে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ফের নদী ভাঙ্গনের শিকার হবে মানুষ-এমনটা হতে দেওয়া হবে না। অনতিবিলম্বে এসব বালু উত্তোলন চিরতরে বন্ধ করে যেখানে যেখানে ক্ষতি হয়েছে সেখানে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এদিকে সরেজমিন ঘুরে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বেঙ্গল গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কুমার নদ খননের কাজ পায়। তারা নদ খনন করে চলে গেলে এলাকার কিছু বালু ব্যবসায়ী সাবলিজ নিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলন শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তবে এতদিন বালু উত্তোলন করে চক্রটি একাই হাতিয়ে নিত লাখ লাখ টাকা, এখন প্রশাসনের কিছু অসত্ ব্যক্তি গোপন সখ্যতায় তার ভাগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক বালু ব্যবসায়ী জানান, আমরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করি ঠিকই তবে এই টাকার ভাগ প্রশাসনের অনেক কর্তাব্যক্তিসহ কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন। না হলে প্রশাসনের নাকের ডগায় মাসের পর মাস এভাবে বালু উত্তোলন করা কি সম্ভব?

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমি ড্রেজার জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে সব কাজ আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের সার্বিক সহযোগিতা ও জনসাধারণ প্রত্যক্ষভাবে এগিয়ে আসলেই বন্ধ করা সম্ভব এই অবৈধ বালু উত্তোলন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহম্মেদের বক্তব্য নিতে গেলে তাকে ষ্টেশনে পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহূত মোবাইলে যোগাযোগ করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর জেলার প্রধান প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, কুমার নদে নিয়মবহির্ভুতভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদ আমি পেয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।